নীলুর গল্প

প্রকাশ: ১১ মে, ২০১৯ ০৬:০৭

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


cbn  

শফিউল্লাহ নান্নু

টেবিলে বসে আছে।ঘুম নেই চোখে।এর পূর্বে কখনো গৃহের বাইরে রাত কাটে নি তার।মায়ের সংসার। ছোট কালে হারিয়ে ফেলেছে বাবা কে।অতি কষ্টে মা ও ভাইয়ের প্রচেষ্টায় আজ অষ্টম শ্রেণি পাস করেছে নীলু।এ প্লাস ও পেয়েছে। তার এই ফলাফল দেখে গতকাল তার বড় ভাই তাকে নিজেই নতুন একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দিল।বিকেলে একটি বাড়িতে তাকে রেখে আসে।আর সে ঐ বাড়িতে থেকে স্কুলে পড়া লেখা করবে। জানুয়ারি মাস।বাইয়ে অন্ধকার।শীতে কন কন কাঁপছে শরীর।মাঝে মাঝে বাতাসের ঝাঁপটি মনে হচ্ছে বাইরে সব ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলছে।নীলু টেবিলে বসে ঘরের কথা,মায়ের কথা,ছোট বোনটির কথা,নতুন স্কুলের নতুন অবিজ্ঞতার কথা একান্তই ভাবছে। আর কলম হাতে কি জানি আঁকছিল খাতায়।হঠাৎ মাঝ রাতে চলে গেল বিদ্যুৎ। এবার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল সে।অনেক্ষণ ছটপট করল। তবু ঘুম আসে না।আবার বিছানা ছেড়ে চলে এলো টেবিলে।ব্যগ থেকে গল্পের বই বের করে কুপির আলো জ্বালিয়ে পড়তে শুরু করল। ছোট কাল থেকে তার বই পড়া প্রাধান শখ।প্রায় ঘন্টা খানেক পড়ার পর মসজিদ থেকে ভেসে এলো আযানের সুর। আর নীলু তখন বই পড়া বন্ধ করে ওয়াশ রোমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নমাজ পড়তে মসজিদে চলে গেল। নাস্তা শেষ করে ব্যাগ কাঁধে বেরিয়ে পড়ল।রাস্তায় ওঠে রিক্সা নিয়ে চলে গেলো স্কুল গেইট।ক্লাসে গিয়ে ঢুকল।সব নতুন মুখ। প্রথম ক্লাসে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল পবীর স্যার।তার পর থেকে সবার সাথে ধীরে ধীরে পরিচয় আর গড়ে উঠল ভাল সম্পর্ক। নীলু খুব ভালো ছাত্র। প্রতিদিন সে স্কুলে আসে এবং ঠিক মত পড়াশোনা করে।তার পড়া লেখার কারণে অতি সহজে সে স্যারদের কাছে খুব প্রিয় হয়ে উঠলো। আর ঠিকঠাক মত চলছি তার দিন কাল। বিকেলে কখনো গল্পের বই আবার কখনো কবিতার বই পড়ত সে।

কখনো বা মাঠে খেলতে যেত বন্ধুদের সাথে। একদিন খেলার মাঠে নীলুর সাথে পরিচয় হয় মাঝ বয়সী একজন লোকের সাথে।কথা বলতে বলতে তাদের মাঝে একটা খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হলো।এরপর মাঠে খেলা শুরু হয়।সন্ধ্যায় খেলা শেষ করে বাড়ি ফিরে সে। পরের দিন নীলু স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হলো। রাস্তায় আবার দেখা হলো মাঝ বয়সী সেই লোকটির সাথে। লোকটি তাকে একটি ছোট ব্যাগ দিয়ে বলল,স্কুল গেইটে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। ঐ যে কাল খেলার মাঠে যে লোকটি প্রথমে ব্যাট করেছিল। তুমি এই ব্যাগটা তাকে দিও। আমি ফোন করে তাকে জানাচ্ছি। তুমি চলে যাও। নীলু কিছু না বলে ব্যাগটি হাতে নিয়ে রিক্সায় উঠে গেল। একটু আসতে না আসতে পুলিশ এসে হাজির।রিক্সা থামিয়ে তাকে চেক করতে শুরু করে। পুলিশ দেখল তার হাতে ইয়াবার ব্যাগ। সাথে সাথে নীলু কে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেল। আর পরের দিন পত্রিকার হেট লাইনে আসল- “বন্ধু যুদ্ধে নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •