cbn  

বার্তা পরিবেশক:
কক্সবাজারের রামুর চাকমারকুল দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলামের ধারাবাহিক অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে মাদ্রাসার মোতয়াল্লি গ্রুপ। গত ৫ মে মাদ্রাসার কার্যালয়ে মোতয়াল্লি গ্রুপের সদস্য ও শিক্ষকদের এক বৈঠকে মাদ্রাসার সহকারি মুহতামিম মুফতি মাওলানা আবদুর রাজ্জাককে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম নিযুক্ত করা হয়।

কিন্তু ৮ মে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মুফতি মাওলানা আবদুর রাজ্জাক ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগে অব্যাহতি প্রাপ্ত সাবেক মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম অসৎ উপায়ে মাদ্রাসার প্যাড ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মর্মে চিঠি ইস্যু করেন এবং তা অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এভাবে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে দক্ষিণ চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহি একটি কওমী আকিদার সর্বোচ্চ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন অব্যহতিপ্রাপ্ত মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। এক্ষেত্রে তিনি মাদ্রাসা পরিচালনায় থাকা মোতয়াল্লি গ্রুপকেও অবজ্ঞা করে চলেছেন।

মাদ্রাসার মোতয়াল্লি গ্রুপের একাধিক সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ১৯৪৬ সালে চাকমারকুল আল-জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় জমিদার ও দানবীর মোহাম্মদ আলী সিকদার। সময়ের ব্যবধানে মাদ্রাসাটি দক্ষিণ চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহি একটি কওমী আকিদার সর্বোচ্চ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার মৌখিক অছিয়ত অমান্য করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠাতার আত্ত্বীয় পরিচয়ে ২০১৫ সালে মাদ্রাসার মুহতামিমের পদ দখল করেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। অথচ প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী সিকদার ও তার ছেলেদের মৌখিক অছিয়ত ছিল যে, কোন আত্ত্বীয়-স্বজন যাতে মাদ্রাসার দায়িত্বে না থাকে। আলেম, ওয়ায়েজ, বক্তা হিসেবে এলাকায় তার কোন পরিচিতি নেই। তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার কাছ থেকে অনেকেই টাকা পাওনা রয়েছে। কওমী মাদ্রাসার রেওয়াজ অনুযায়ী- মাদ্রাসার মুহতামিম হতে হাক্কানি, আমানতদার, তাওকয়া, পরহেযকার হতে হয়। কিন্তু মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এ ধরনের কোন গুন ও যোগ্যতার অধিকারি না হলেও প্রতিষ্ঠাতার নাতি পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে মুহতামিমের পদ দখল করেন। কলা-কৌশলে মুহতামিমের পদে আসার পর থেকেই মাদ্রাসা পরিচালনায় চরম স্বেচ্ছাচারি ও অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে মাদ্রাসার তহবিল তছরূপ করেন। তার কারণে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকও অনিয়ম-দুর্নীতি, বলৎকারসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে যেসব শিক্ষক এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করেন তারা তার রোসানলে পড়েন। ইতিমধ্যেই ৫/৬ জন অত্যান্ত মেধাবী ও ভাল শিক্ষককে তিনি বিতাড়িত করেছেন। এভাবে মাত্র কয়েক বছরে মাদ্রাসাটিতে বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পিছিয়ে নিচ্ছেন। সর্বশেষ এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে গত ২৭ এপ্রিল চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসার মোতয়াল্লি গ্রুপের সদস্য নুরুল ইসলাম সিকদারের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মুহতামিমের অনিয়ম-দুর্নীতি ও মাদ্রাসা পরিচালনায় শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সহ কয়েকজন শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া ও মাদ্রাসা পরিচালনায় ব্যর্থতার বিষয়টি প্রমানিত হয়। ফলে মাদ্রাসাটি পরিচালনায় সংস্কারের জন্য মাদ্রাসার চার জন শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত, ২৩ সদস্য বিশিষ্ট মজলিসে শুরা পুর্নগঠন, ৭ সদস্য বিশিষ্ট মজলিসে এলমি পুর্নগঠন, ৭ সদস্য বিশিষ্ট মজলিসে আমেলা পুর্নগঠন এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি পুর্নগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এছাড়া বৈঠকে মাদ্রাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পদ থেকে আল্লামা শফি হুজুরকে বাদ দেয়া, মাদ্রাসা তহবিলের ৫০ লাখ টাকার ব্যয়, ইচ্ছামতো রেজুলেশন তৈরী, মুহতামিম সিরাজের আয়-ব্যয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার এক পর্যায়ে মুহতামিম মাওলানা সিরাজ এ বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থণা করেন এবং নিজেকে সংশোধন করবেন বলে অবহিত করেন। এসময় মাওলানা আব্দুর রাজ্জাককে সহকারি মোহতামিম হিসেবে দায়িত্ব প্রদান এবং অভিযুক্ত বিষয়ে মুহতামিম নিজেকে সংশোধন করে নিবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। একই সাথে গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাযথ নিয়মে বাস্তবায়ন করবে মর্মে মোতয়াল্লি গ্রুপকে দুই দিনের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করে ২০ রমজানের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য মোহতামিমকে পরামর্শ প্রদান করেন। অন্যথায় মোতয়াল্লি গ্রুপ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানানো হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তের কপি গ্রহন করেন মুহতামিম। কিন্তু ৩ মে তারিখে মাদ্রাসার প্যাডে ২০ রমজানের মধ্যে মজলিসে শুরার বৈঠক ডাকা সম্ভব নয় বলে চিঠি দেন চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদারকে। মোতয়াল্লি গ্রুপকে কিছুই অবহিত না করে মাদ্রাসায় এখতিয়ার বর্হিভূত কার্যক্রম চলমান রাখায় মোতয়াল্লি গ্রুপের সদস্যরা ৫ মে শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করেন মাদ্রাসা কার্যালয়ে। সেখানে মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলামকে সাময়িক অব্যহতি দিয়ে সহকারি মুহতামিম মাওলানা আবদুর রাজ্জাককে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব দেয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত মোহতামিম আবদুর রাজ্জাক ওমরা পালনে গত ৮ মে সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগে ৭ মে পূর্বের তারিখ দেখিয়ে গত ১০ মে আবদুর রাজ্জাককে অব্যহতি দেয়া হয়েছে মর্মে একটি চিঠি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। যা করার কোন এখতিয়ারই নেই মাওলানা সিরাজের। এতে মোতয়াল্লি গ্রুপের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশাল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কারো একক সিদ্ধান্তে চলতে পারে না। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় মোতয়াল্লি গ্রুপ রয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মাওলানা সিরাজ একক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাদ্রাসায় বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এভাবে হলে মাদ্রাসার যাবতীয় উশৃংখল পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। মোতয়াল্লি গ্রুপ মাদ্রাসার স্বার্থে যে কোন সিদ্ধান্ত বায়স্তবায়নে বাধ্য হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •