সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
পহেলা মে আন্তর্জাতি শ্রমিক দিবস উপলেক্ষে কক্সবাজার শহরে প্রথম বারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মিছিল সমাবেশ করেছে দর্জি শ্রমিকরা। লাল সবুজের পতাকা নিয়ে অনুষ্ঠিত মিছিলটি দর্শকদের চমক লাগিয়ে দিয়েছে। তাতে দর্জিদের অংশ গ্রহণও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।
মহা মে দিবসের সকালে শহরের বিভিন্ন টেইলারিং প্রতিষ্ঠান থেকে পানবাজার সড়কে জড়ো হয় শ্রমিকরা। বেলা ১১ টার দিকে দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দর্জি শ্রমিকদের শ্লোগানে শহর মুখরিত হয়। ন্যায্য মজুরি দাবী সম্বলিত বিভিন্ন শ্লোগানসহ দর্জি শ্রমিকরা মিলিত হয় সমাবেশে। পানবাজার সড়কে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মে দিবসের এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও কক্সবাজার শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক এম ইউ বাহাদুর।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ঘামের উপর দিয়ে মালিকরা গড়ে সম্পদের পাহাড়। মালিকের প্রতিটি অর্জনের পেছনের শ্রমিকদের নিবিড় পরিচর্যা, আন্তরিকতাপূর্ণ কর্ম ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। শ্রমিকবিহীন কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনা। কাজেই ন্যায্য পাওয়া থেকে শ্রমিকদের যেন বঞ্চিত করা না হয়।
কোথাও মজুরি বঞ্চিত করা ও শ্রমিক নির্যাতনের খবর পেলে কঠোরভাবে জবাব দেয়া হবে বলে জানান শ্রমিক নেতা বাহাদুর।
সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন- সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, অর্থ সম্পাদক মো. আলী, শ্রমিক নেতা ছৈয়দ নুর, শৈবাল দে, হারুনুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, আবুল কাশেম, জ্ঞান জ্যোতি মনু, হামিদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক অনধিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে অনেক শ্রমিক হতাহত হন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দৈনিক কাজের সময় আট ঘণ্টা করার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •