ইমাম খাইর, সিবিএন:
পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা-সমালোচনা শেষে একটিই সিদ্ধান্ত- এবারের ডিসি সাহেবের বলীখেলায় অংশ নিতে পারছেন না ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন দিদারুল ইসলাম ওরফে দিদার বলী। মাত্র ৮০ টি ইয়াবার মামলায় সারা জীবনের অর্জনে ‘কালো পর্দা’ নামতে বসেছে পুরো দেশে পরিচিত দুর্দান্ত এই খেলোয়াড়ের।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে সিদ্ধান্তের কথা জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার।
আগামী ৩ ও ৪ মে কক্সবাজার বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ডিসি সাহেবের বলীখেলার ৬৪ তম আসর উপলক্ষে প্রেসব্রিফিং-এ আয়োজক কমিটির এই সিদ্ধান্ত খোলাসা করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, এবারের খেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ বলি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু, মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দিদার বলীকে খেলা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও ডিসি সাহেবের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, সদস্য সচিব ও পৌর প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির, পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম (জয়), জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ২৮ জুন ময়মনসিংহে গিয়ে গাড়ি ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন দিদার বলিসহ তাঁর তিন বন্ধু। ছিনতাইকারীরা তাঁর গাড়ি ছিনতাইয়ে ফেঁসে গিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ৮০টি ইয়াবা দিয়ে দিদার বলী ও তাঁর বন্ধুদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মামলায় ১১ দিন কারাভোগও করেন দিদার বলী। তবে, মামলার এজাহারে উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো দিদার বলীর কিনা তা স্পষ্ট নেই। তাকে সহযোগি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কোনভাবে জড়িত নয় বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেও অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না দিদার বলীর।
দিদার বলীর বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি উমখালী গ্রামে। ১৯৯৮ সাল থেকে বলীখেলা শুরু করেন তিনি। ২০০১ সাল থেকে কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলীখেলায় অংশগ্রহণ শুরু করেন।
চট্টগ্রামের এতিহ্যবাহী ‘জব্বারের বলীখেলা’য় ১২ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আরও তিনবার। কক্সবাজারের বিখ্যাত ‘ডিসি সাহেবের বলীখেলা’তেও ১৫ বার চ্যাম্পিয়ন আর তিনবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে কথা হয় দিদার বলীর সঙ্গে।
তিনি বলেন, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, কেন এমন সিদ্ধান্ত? নিজের মাঠে খেলতে না পারাটা আমার জন্য যেমন লজ্জার, তেমন দুঃখেরও।
আমার হাজারো ভক্তকূলের দিকে চেয়ে হলেও আশা করছি, বলিখেলা আয়োজক কমিটি ও প্রশাসন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
একটি চক্রান্তকারী গোষ্টির কারণে এমন সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন দিদার বলি।
এবারের ডিসি সাহেবের বলীখেলায় তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হবে।
প্রথম ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ট্রপির সাথে ১৫ হাজার টাকা এবং রানারআপ ট্রপির সাথে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার ট্র্রপির সাথে ১০ হাজার টাকা ও রানারআপ ৭০০০ টাকা।
তৃতীয় ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার ট্রপির সাথে ৭০০০ টাকা এবং রানারআপ ট্রপির সাথে ৫০০০ টাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •