ইমাম খাইর, সিবিএন:
চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে অভিযুক্ত তথ্য সংগ্রহকারীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মা।
২৯ এপ্রিল ‘টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভোটার ফরম, বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেনা তথ্য সংগ্রহকারীরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন)। মূলতঃ ওই নিউজের সুত্র ধরে এ সতর্কতা জারী করে নির্বাচন কর্মকর্তা।
নিউজে বলা হয়-চলমান ভোটার হালনাগাদে টাকার বিনিময়ে ভোটার ফরম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কথা থাকলেও নিযুক্ত কর্মীরা যাচ্ছেনা। সুবিধাজনক জায়গায় ডেকে ফরম পূরণ করানো হচ্ছে। ফরম পেতে টাকা দাবী বা ফরম পূরণ করে দেয়ার বিনিময়ে টাকা আদায় করছে কিছু তথ্য সংগ্রহকারী।-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।
এমন তথ্যও এসেছে, কিছু এলাকায় বসবাসরত পুরনো রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় তথ্য সংগ্রহাকারীকে ম্যানেজ করে হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত হতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
সংবাদে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী আবদুর রশিদ, ছেনুয়ারা বেগম, ৭ নং ওয়ার্ডে মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম, ১২ নং ওয়ার্ডের কলাতলী এলাকায় ইকবাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে। এরপর ব্যবস্থা নেয় সদর নির্বাচন কর্মকর্তা।
শিমুল শর্মা সিবিএনকে বলেন, নিউজে যেসব নাম এসেছে তাদের প্রত্যেকের সাথে অফিস যোগাযোগ করেছে।
তিনি বলেন, এই দায়িত্ব পালন জোর করে দেওয়ার কোনও বিষয় নয়। এটা চাকরীর অংশ। পালন না করার সুযোগ নাই।
আমাদের ফরমের কোনও সংকট নেই। তবে কাজটা আমরা খুব নিবিড় মনিটরিং করছি, যাতে প্রকৃত অর্থেই ফরম গুলো ফিলাপ হয়। এবারের তথ্য সংগ্রহের সময় ২১ দিন। ১৩ মে পর্যন্ত সময় আছে। নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তরা ন্যুনতম একবার বাড়ী বাড়ী যাবে। কেউ অনুপস্থিত থাকলে, পরে সে যোগাযোগ করবে।
সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার বলেন, ভোটার হতে জন্মসনদ অবশ্যই অনলাইনভুক্ত হতে হবে। এটা মাস্ট। আনুষাঙ্গিক সব ডকুমেন্টস না দিলে ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি দুঃখ করে বলেন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ হতে লিখিত প্রত্যয়ন নিয়ে ভোটার হতে চাইছে। যখনই আমরা করাচ্ছি না, তখনই অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।
আমি এবং আমার অফিস সাধ্যমত মনিটরিং করছি। ভোটার হওয়ার যোগ্য কেউ বাদ পড়বে না।

গত ২৩ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার সদরে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে ফরম পৌঁছে গেছে। সবকিছু দেখভালের জন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক ‘সুপারভাইজার’ নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। নিয়োজিতদের আগেভাগে সংশ্লিষ্ট কাজের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মা বলেন, কক্সবাজার পৌরসভা ও ১০ ইউনিয়নে মোট ১২৮ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ২৬ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা আগামী ১৩ মে পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করবে।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যাঁদের বয়স ১৮ হয়েছে বা হবে, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করবে। এঁদের মধ্যে যাঁরা এখনই ভোটার হওয়ার যোগ্য, তাঁদের ভোটার করে নেওয়া হবে। বাকিদের মধ্যে যখন যাদের বয়স ১৮ হবে, তখন তাঁদের ভোটার করে নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয় ২০১৭ সালে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালে হালনাগাদের কাজ করা সম্ভব হয়নি।
বিগত হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছিলেন ভোটার তালিকায় নিবন্ধনের জন্য তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটারের পাশাপাশি মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে এবং ভোটার স্থানান্তরের আবেদন নেয়া হবে। এবারের হালনাগাদে হিজড়া জনগোষ্ঠী ‘হিজড়া’ হিসেবে ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হতে পারবেন।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর যাচাই বাছাই, ২৫ মে থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে নাগরিকদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও নিবন্ধনের কাজ চলবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •