মোহাম্মদ কাইমুল ইসলাম ছোটন, রাঙ্গামাটি
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)এর সশস্ত্র  শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধা কর্তৃক গণহত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য অধিকার ফোরাম রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে সোমবার বিকাল ৫ টায় রাঙ্গামাটি পৌরসভার সামনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বেগম নূর জাহান।
তিনি বলেন, রাঙ্গামাটিতে আমরা সবাই এক। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে চাই। একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ এই শান্তির জায়গাটাকে অশান্ত করে তুলেছে। যারা এমন কাজ করছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। যেখানে আমাদের নিরীহ মানুষের এখনো স্বাধীন দেশে চাঁদা দিতে হয়। এখানে নিরীহ মানুষদের তারা বারবার হত্যা করেছে নির্মমভাবে। এই সব ঘটনা মনে পড়লে আজও গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যাই। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই। আমরা সবাই এক হয়ে বাস করতে চাই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমঅধিকার আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কামাল। আরো বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি কলেজ শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আবছার, মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি নাজিম আল হাসান।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, ১৯৮৬ সালে ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৮৫টি গ্রাম এবং পানছড়ি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের প্রত্যেকটি বাঙালি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এই গণহত্যা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা। এইদিন বাঙালিদের সমস্ত বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং লুটপাট করা হয়। এই সন্ত্রাসীরা সামনে বাঙালি যাকে পেয়েছে তাকেই হত্যা করেছে। মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৪০০ জনের অধিক। পানছড়িতে ৩৫০ জনের অধিক নারী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৮০০ জন ও পানছড়িতে ৫০০ জনের অধিক বাঙালিকে আহত করা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এই দাবি জানায়, দ্রুত এর বিচার চাই।
প্রতিবাদ সভার সভাপতিত্ব করেন, পার্বত্য অধিকার ফোরাম রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি নাজিম আল হাসান।
এতে উপস্থিত ছিলেন, ‘পার্বত্য অধিকার ফেরাম’ রাঙ্গামাটি জেলা ও কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ।
সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন, পার্বত্য অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিঠির সমন্বয়ক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান হাবিব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •