এ কে এম ইকবাল ফারুক,চকরিয়া :

সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ কর্তৃক তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিষ্ঠিত ফায়েল খায়ের কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় নির্মিত তিনটি স্কুল কাম-সাইক্লোন শেল্টার হস্তান্তর করা হয়েছে। তদ্মমধ্যে চকরিয়ায় দুটি ও পেকুয়ায় একটি ভবন রয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট প্রতিটি ভবনের জন্য ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা করে। ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চকরিয়ায় নির্মিত দু’টি স্কুল কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনের কাগজপত্র স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্কুল কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনের কাগজপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব জাফর আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, ফায়েল খায়ের কর্মসূচির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সুফি মোস্তাক আহমেদ, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ফায়েল খায়ের কর্মসূচির সমন্বযক মো. রেজাউল করিম ও প্রকল্প পরিচালক পল নরম্যান বাড প্রমুখ।

এসময় উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু, চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত ) এস এম আতিক উল্লাহ, সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন বাবুলসহ নির্মাণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে এদিন বিকালে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে অপর একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পেকুয়ায় উপজেলার মগনামায় নির্মিত স্কুল কাম-সাইক্লোন শেল্টারের কাগজপত্র সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুব উল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাগজপত্র এ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব জাফর আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, ফায়েল খায়ের কর্মসূচির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সুফি মোস্তাক আহমেদ, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ফায়েল খায়ের কর্মসূচির সমন্বযক মো. রেজাউল করিম ও প্রকল্প পরিচালক পল নরম্যান বার্ড প্রমুখ।

প্রসঙ্গত: সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ কর্তৃক তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিষ্ঠিত ফায়েল খায়ের কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশে ১৩টি জেলার ২১টি উপজেলায় ১৭২টি স্কুল কাম-সাইক্লোন শেল্টার নির্মান করা হয়। তিনতলা বিশিষ্ট প্রতিটি ভবনের জন্য ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা করে। ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এসব স্কুল কাম-সাইক্লোন শেল্টারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সময় প্রতিটি ভবনে দুই হাজার মানুষ ও পাঁচশত গবাদিপশু আশ্রয় নিতে পারবে। প্রতিটি স্থাপনায় ২৪০ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে পারবে। নির্মিত এসব স্কুল কাম-সাইক্লোন শেল্টার প্রতি ঘন্টায় ২৬০ কি:মি: গতিবেগ পর্যন্ত বায়ু প্রবাহ (ঘূর্ণিঝড়) প্রতিরোধে সক্ষম। ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে পরিবেশ বান্ধব ডিজাইনে, এছাড়া রয়েছে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, বীকন লাইট, উন্নতমানের আসবাবপত্র ও সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এছাড়া দূর্যোগকালীন উপকূলীয় অঞ্চলে পানির অভাব পূরনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে ববন গুলোতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •