আবদুল মজিদ, চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফ ফরেষ্টের ১ নং খতিয়ানভূক্ত বনভূমির বিশাল আয়তনের পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে রূপান্তর ও বহুতল পাকা দালান নির্মাণ করছে সংগবদ্ধ ভূমিদস্যুচক্র। পরিবেশ ও বনআইন লঙ্গন করে প্রকাশ্যদিবালোকে এসব কাজ করলে সংষ্টি কর্তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।এনিয়ে সচেতন মহলসহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরে জমিনে গিয়ে প্রাপ্ত তথ্যে ও স্থানীয় জানাগেছে, হারবাং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাইঘ্যাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুচ ছোবহানের পুত্র মোঃ আলমগীর ও পার্বত্য আজিজনগর রিফুজি পাড়ার বাসিন্দা বর্তমানে হারবাং ৭নং ওয়ার্ডের ষ্টেশন এলাকায় বসবাসকারী জনৈক মোজাম্মেল সওদাগরের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গত ২০ দিন ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে জেলা প্রশাসনের ১নং খতিয়ানভূক্ত ইউনিয়ন পরিষদ লাগোয়া ৮০ শতক পাহাড় শ্রেণির জমি জোর পূর্বক জবর দখলে নেয়। অভিযোগ উঠেছে, ভূমিদস্যুরা পাহাড় ও গাছ কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে এবং চতুর্পার্শ্বে সীমানা দেওয়াল স্থাপন করেছে। বর্তমানে বহুতল বিশিষ্ট পাকা দালান নির্মানের জন্য ইট,বাল, সীমেন্ট মজুদ করেছে। ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত হারবাং বনবিট কোন বাধা না দিলেও ইউনিয়ন পরিষদ একাধিকবার বাধা নিষেধ করেন। কিন্তু তা তোয়াক্কা করছেনা জবর দখলকারীরা। ইতিপূর্বে ওই পাহাড়ী জমিটি রিজার্ভ থাকলেও সাধারণ জনগন ব্যবহার করতেন। যার কারণে পরিবেশ ও বন আইন লঙ্গনকারী ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনের ১নং খতিয়ানভূক্ত পাহাড় শ্রেণি জমি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সাইফুল আশরাফ জানান, পাহাড় কাটা পরিবেশ আইন লঙ্গন। সরে জমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে যত বড় প্রভাবশালীই হোকনা কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •