সিকিম : সাদা পাহাড় যেন নীল আকাশ ছুঁয়ে আছে

– ফেরদৌসি চৌধুরী

ভারত সীমান্তে যখন আমাদের পাঁচজনের পাসপোর্ট চেক করছিলেন,পুরুষ অফিসার চোখ তুলে তাকিয়ে জিজ্ঞেস জিজ্ঞেস করলেন, সব মহিলা?স্মৃতি ভাবী বেশ পার্ট দেখিয়ে বললেন, হ্যাঁ আমরা চাইলেই সব পারি।অফিসার মিষ্টি হেসে বললেন, ঠিক আছে তবে আমাদেরকে একদম সাইট করে দিবেননা যেন।তবে শেষ পর্যন্ত গ্রুপটা আর শুধু মহিলাদের থাকলো না।শিলিগুড়িতে আমাদের সাথে যুক্ত হলো তিনজনের আরেকটা গ্রুপ।ওখানে দুইজন ছেলে।একজন মামুন।মালেশিয়ার একটা ভার্সিটিতে ম্যাকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে,আরেকজন অনিন্দ্য।সে এ লেভেল দিবে বা দিয়ে ফেলেছে।সেলিব্রিটি রীতিমতো। অনেক ভালো ভালো মুভিতে,নাটকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছে সে।একটা অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলো। অন্যজন লাইলা।অনিন্দের বোন।মালেশিয়াতে কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়ছে।এতো কিউট কিউট তিনজন সাথী পেয়ে আমাদের জার্নিটা আরো বেশী প্রান পেলো।মহিলাদের গ্রুপে ঐ ছেলে দুটোর প্রতি অনেক নির্ভরশীল হয়ে গেলাম দ্রুতই।

তিনটা মেয়ে (দ্যুতি,হৃদী,পুষ্প) ঠিক করলো তাদের মাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে সুন্দর কোন জায়গায়। ইউটিউব, গুগল দেখে ঠিক করলো সিকিম দেখার। পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের একটি অংশ সিকিম। সিকিমে উপস্থিত কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শিখর।পাসপোর্টের কোন একটা সমস্যার কারনে পুস্পের যাওয়া হলোনা মাকে নিয়ে।
আমাদের যাত্রা শুরু হলো ২১ এপ্রিল। সিকিম দেখার পারফেক্ট টাইম মার্চ এপ্রিল। শিলিগুড়ি থেকে সিকিমের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম ২২ তারিখ দুপুরে।ঝিকঝাক প্যাটার্নে নির্মিত রাস্তা ক্রমশ উপরের দিকে উঠছে আর সবার কন্ঠে একটাই শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম ওয়াও..। যাওয়ার পথে ছোট বড় অসংখ্য ঝর্ণা। নামলাম কয়েকটাতে, আশ্চর্যরকম স্বচ্ছ পানি। সুন্দর সব জায়গা দেখতে দেখতে রাজধানী গ্যাংটকে যখন পৌঁছালাম তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। পাহাড়ের ধাপে ধাপে তৈরি করা বাড়ীর লাইট দেখে মনে হচ্ছিলো যেন আকাশে অসংখ্য তারার মেলা।
পরিচ্ছন্ন শহর। খোলা রাস্তায় প্লাস্টিক, ঠোংগা, সিগারেট, থুথু ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। মদ খাওয়া যাবে তবে বোতল ফেলা যাবেনা।অসম্ভব ভদ্র মনে হলো পাহাড়িদের।মাত্র ১৫০০ রুপিতে খুব ভালো মানের হোটেল পাওয়া গেল।ওয়াইফাই, গ্রিজার,বাথটাব, পরিস্কার বাথরুম। জানালার কাছে বসে রাতের পাহাড় দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরোটা সময়।
পরদিন ভোরেই বের হয়ে গেলাম নর্থ সিকিমের উদ্দেশ্যে। ইউংথাং ভেলী, জিরো পয়েন্ট গন্তব্য। বাংলাদেশীদের জন্য জিরো পয়েন্টে যাওয়ার পারমিশন পাওয়া যায়না কারণ কোন এক দেশপ্রেমিক নাকি সীমান্তে গিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দিয়ে এসেছিলো। আমাদের ভাগ্য ভালো ছিলো, আমাদের গাড়ির ড্রাইভার শ্রমিক নেতা ওখানকার। সবাই তাকে সমীহ করে দেখলাম। সে অনেক চেষ্টা করে আমাদেরকে পারমিশন নিয়ে দেয়।যদিও সেজন্য তাকে এক্সট্রা ৩০০০ রুপি দিতে হয়েছে। কিন্তু জিরো পয়েন্টে যে রুপ আমরা দেখলাম সেটা অমূল্য। বরফে ঢাকা সাদা পাহাড়গুলো নীল আকাশ ছুঁয়ে আছে। আল্লাহর এক অপূর্ব সৃস্টি। এতো সুন্দর!!  লিখে বা বলে এর সৌন্দর্য বর্ণনা করা অসম্ভব।জিরো পয়েন্ট থেকে লাচুং ফেরার পথে নামলাম ইউংথাং ভেলীতে।তার আরেক রুপ।উঁচু পাহাড়। বরফে রোদ পড়ে চিকচিক করছে।তারই কুল ঘেঁষে নীল পানির লেক।শুধু চোখ জুড়িয়ে মন ভরে দেখলাম। আর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানালাম।

সর্বশেষ সংবাদ

যারা ফেসঅ্যাপে বুড়ো হয়েছেন তাদের জন্য দু:সংবাদ

সেতু নির্মাণের আড়াই বছরেও হয়নি পাকা সংযোগ সড়ক

লামায় বন্যা আক্রান্তদের সেবায় হোপ ফাউন্ডেশনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

কক্সবাজার থেকে বছরে ৫০০ কোটি টাকা কর আদায় সম্ভব

রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত শুরু করবে আইসিসি

দুর্নীতির অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আব্বাসি গ্রেফতার

তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১৫

প্রধানমন্ত্রীর এটুআই প্রোগ্রামের জেলা এম্বাসেডর পেকুয়ার আছহাব উদ্দিন

শহরের সড়ক-উপসড়কের বেহালদশা

মাদকের সাথে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না

কক্সবাজারে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

পশুর জন্য ভালবাসা

চকরিয়ায় দু’দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৪০ হাজার বসতঘর , ভেসে গেছে ৫৬ কোটি টাকার মাছ

বিদেশ সফর শেষে রামুতে শ্রেষ্ঠ চেয়াারম্যান ফরিদুল আলম সংবর্ধিত

অক্টোবরের পর রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত শুরু করতে চায় আইসিসি

ফাঁসিয়াখালী ইউপি’র উপ নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে : সাঈদী’কে ইসি কবিতা খানম

টেকনাফের যুবদল নেতা রাশেদের মৃত্যুতে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর শোক

চিকিৎসার জন্য রফিকুল ইসলাম মিয়াকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে

শিশুর মাথা ব্যাগে নিয়ে মদ খেতে গিয়েছিল সেই যুবক

সব রেকর্ড ভেঙেছে যমুনা-তিস্তার পানি