মোঃ ফারুক, পেকুয়া: 

শাফায়েত আজিজ রাজু পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সিকদার বাড়ির মরহুম মাহামুদুল করিম চৌধুরীর সন্তান। বিগত সময়ে পিতা বিএনপি থেকে নমিনেশন প্রাপ্ত হয়ে চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলন। কেন্দ্রীয় বিএনপিতে দায়িত্বও পালন করেন। পিতার আদর্শ ধারণ করে ছাত্রদলের রাজনীতিতে নাম লেখান তিনি।

বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের অনুসারী হয়ে পেকুয়া উপজেলা পরিষদে দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

এক সময়ের বিএনপি অধ্যুষিত এই এলাকা থেকে দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও কর্ম আর দক্ষতায় সব শ্রেণীর মানুষের ভালবাসা আদায় করার পাশাপাশি উন্নয়নও করেছেন সার্বজনীন।

দলের স্বার্থে কখনো উপজেলা পরিষদকে ব্যবহার না করায় দলের পক্ষ থেকেও সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে তাকে। তারপরও নিজ গতিতে কাজ করেছেন এলাকাবাসীর স্বার্থে।

বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় তিনিও ছিলেন ভোটের বাইরে। যার কারণে বর্তমান উপজেলা পরিষদে তিনি আর থাকছেন না। নির্বাচিত হয়েছেন পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথে বিদায় নেবেন শাফায়েত আজিজ রাজু।

উপজেলা পরিষদে কাজ করতে গিয়ে মন জয় করেছেন বিভিন্ন পেশার মানুষদের সাথে সাথে শ্রমিক শ্রেণী- সুশীল সমাজ থেকে শুরু সাংবাদিক সমাজের। বিভিন্ন পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিদায়ে ব্যথিত অসংখ্য পোষ্ট করে যাচ্ছেন।

সেই একজন রাজুর বিদায়ে ব্যথিত এখন পুরো পেকুয়াবাসী: 

সদরের বাসিন্দা আবুল হোছাইন, এফএম সুমন, কুমার বিশ্বজিত, মোঃ মিজান, আবদু রহিম, আবু কালাম, মগনামার বাসিন্দা আবু তালেব, আশরাফ, আবু তাহের, রাজাখালীর বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, শফিউল আলম, টইটংয়ের বাসিন্দা খোকন, মোঃ রফিক, শিলখালীর বাসিন্দা তানজিমুল ইসলাম জিসাদ, রেজাউল করিমসহ আরো কয়েকজন শাফায়েত অাজিজ রাজুকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়ে তিনি সেবা দিয়ে গেছেন। উন্নয়ন করেছেন দলমত নির্বিশেষে। এক্ষেত্রে রাজনীতি করতে গিয়ে কিছু ত্রুটি থাকলেও মনে প্রাণে পেকুয়াবাসীকে অাপন করে নিয়েছিলেন। পেকুয়া উপজেলা পরিষদের বিচারকার্য চালাতে গিয়ে কখনো দলীয় দৃষ্ঠিভঙ্গিতে কাজ করেনি। নিজ ক্ষেত্রে ও অাদালত থেকে প্রেরিত বিচারকার্য সমাধা করতে গিয়ে চেয়েছেন দুই পক্ষকে নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠ সমাধান দেওয়ার জন্য। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সর্বোচ্ছ চেষ্টা করেছেন পেকুয়াবাসীকে হয়রানি না করতে। যার কারণে তার কাছে ছুটে যেত এলাকার সবশ্রেণীর মানুষ। মিষ্ঠিভাষায় কথা বলতেন বলেও সকলের প্রিয় হয়ে ওঠছিলেন তিনি। অামরা দোয়া করি তিনি ভাল থাকবেন।

সাংবাদিক এসএম হানিফ বলেন, সদ্য বিদায় নিতে যাওয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত অাজিজ রাজু পরিষদকে জনগণ মুখি করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান হিসাবে পরিষদ চালাতে গিয়ে সাংবাদিকদের পরামর্শ ও মতামত নিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজও তাকে সহযোগিতা করায় সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন। তাকে পেকুয়াবাসী মনে রাখবে অাজীবন।

উপজেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, শাফায়েত অাজিজ রাজু সবার সাথে বন্ধুর মত মিশতেন। যখনি তাকে অামরা পাশে চেয়েছি তিনি সাঁড়া দিয়েছেন। অামাদের অাশা ও বিশ্বাস নবাগত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও তার ধারারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

উল্লেখ্য: কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চকরিয়া-পেকুয়া অাসনের সাবেক এমপি মগনামা ইউনিয়নের সিকদার বাড়ির মাহামুদুল করিম চৌধুরীর সন্তান শাফায়েত অাজিজ রাজু। রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্রদলের সাথে। মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদলের সভাপতি, জেলা যুবদলের সহসভাপতি ও সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ছাত্রদলের সভাপতি থাকাবস্থায় পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রথমবার পরাজিত করেন উপজেলা অা’লীগের সাবেক সভাপতি ছাদেকুর রহমান ওয়ারেছি ২য় বার পরাজিত করেন তার ছেলে ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেছিকে। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর অালম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •