প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার লবণচাষীদের ক্ষতি করে সরকার কখনো লবণ আমদানির অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রাণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিম। শনিবার সকালে কক্সবাজার শহরের বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘লবণচাষী শুমারি- ২০১৮ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।

অনুষ্ঠানটি যৌথভবে আয়োজন করে বিসিক এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্প। অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব আবদুল হালীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন লবণচাষীদের ক্ষতি করা যাবে না। তাদের ক্ষতি করে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করা হবে না। প্রয়োজনে আধুনিক পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করা হবে। এছাড়া, এ শুমারীর তথ্য ভবিষ্যতে লবণচাষ এবং লবণচাষীদের উন্নয়নে শিল্পমন্ত্রণালয় কাজে লাগাবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত লবণচাষীরা অভিযোগ করেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হবার পরেও একটি অসাধু সিন্ডিকেট বেশি লাভের আশায় বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করছে। এ কারণে লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত চাষী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

এসময় বিসিকের চেয়ারম্যন মোহাম্মদ মোস্তাক হাসান লবণ চাষী ও মিল মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন কারও ক্ষতি করে দেশের বাইরে থেকে লবণ আমদানি করা হবে না। সরকারও তা চায় না। আর কেউ যদি বেশি লাভের আশায় অবৈধভাবে লবণ আমদানি করে লবণচাষীদের ক্ষতি করতে চায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ‘লবণচাষী শুমারি- ২০১৮’ এর সারাংশ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডক্টর আমির হোসেন। এসময় তিনি জানান, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে দেশে ১৫ লাখ ২ হাজার ৯শ ৯০ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ৫৯ হাজার ৫শ ৬৩ একর জমি লবণ চাষের আওতায় আছে এবং মোট ২৭ হাজার ৫শ ২৮ জন লবণচাষী আছেন। এরমধ্যে ৫১ শতাংশ কৃষক জমি লিজ নিয়ে লবণ চাষ করেন। এছাড়া, মধ্যসত্বভোগী ও ফোড়িয়াদের কারণে মিল মালিকরা বেশী দামে লবণ কেনেন আবার অন্যদিকে লবণচাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হন।

অনুষ্ঠানে লবণশুমারির মোড়ক উন্মোচনের পর সফল লবণ শুমারির তত্ত্বাবধায়কদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরী সহযোগীতায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন লবণচাষী শুমারি ২০১৮ পরিচালনা করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিকের পরিচালক (প্রকল্প) মুহাম্মদ আতাউর রহমান সিদ্দিকী, কক্স বাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. শাহজাহান আলী, বিসিক (চট্টগ্রাম)-এর আঞ্চলিক পরিচালক মুহসীন কবির, বিসিকের (ডিজিএম) সৈয়দ আহম্মদ, প্রিজম প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, প্রিজম প্রকল্পের টিম লিডার আলী সাবেত। আরো উপস্থিত ছিলেন, লবণচাষী, লবণ ব্যবসায়ী, মিল মালিকসহ লবণশিল্প সংশ্লিষ্টরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •