মোঃ ওসমান গনিঃ
কক্সবাজার সদরের পোকখালীতে বলিখেলা ও বৈশাখী মেলার নামে জুয়ার আসর বসানোর পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি দলের নাম-পরিচয়।
চিহ্নিত জুয়াড়ি ও ছিনতাইকারী চক্রের এই আয়োজন নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। চক্রটি ইতিমধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যান এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে ধর্ণা দিয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছেও অনুমতির জন্য গিয়েছে। প্রশাসন অনুমতি না দিলেও জুয়াড়িরা তাদের আয়োজন সমাপ্ত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িদের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয়েছে আয়োজক কমিটির। দু-একদিনের মধ্যেই বসানো হবে বলিখেলার নামে জুয়াখেলার আসর। আর এই আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ে শীর্ষ পদে থাকা বেশ কয়েকজন নেতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ এই জুয়া খেলার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে একটি আসাধু চক্র। আয়োজক কমিটির অনেকেই চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কাজে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
জানা যায়, বলীখেলার আড়ালে জুয়ার আসর বসানোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সাথে আয়োজক কমিটির ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনার রেকর্ড রয়েছে। এবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা করছে সাধারণ জনগণ।
পোকখালী ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকার সাজেদুল কবির চৌধুরী সাজু নামের এক ব্যক্তি জানান, জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসন থেকে বৈশাখীমেলার অনুমতি নিয়ে ৩/৪ দিন ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে জমজমাট জুয়ার আসর বসায় গুটি কয়েক বেকার যুবক। তাদের সহযোগিতা করে কতিপয় আওয়ামী লীগের নেতা। তাতে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির হাত রয়েছে। চিহ্নিত প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে জুয়াড়িরা এমনটি করে যাচ্ছে বারবার।
এক সপ্তাহ পরেই পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে। এর আগে বলীখেলার নামে জুয়ার আসর বসানো কোনোভাবেই মেনে নিতে চায় না ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। যেকোন কিছুর বিনিময়ে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। বলি খেলাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা হওয়ার আগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ রফিক আহমদ এর কাছ থেকে বলি খেলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বলি খেলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজনের অনুমতি চেয়ে কিছু লোক আমার কাছে আবেদন করছিল। সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্ট বিবেচনায় অনুমতি দেয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহি সংস্কৃতি হিসেবে বলী। কিন্তু বলীখেলার আড়ালে কেউ জুয়ার আসর বসানো যায়না। আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •