মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু , নাইক্ষ্যংছড়ি :

পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটা নিষিদ্ধ থাকলেও ক্ষমতার দাপটে এবং আইনের ফাঁকফোকরে নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন বনে গড়ে উঠেছে ৭টি ইটভাটার মধ্যে বৃহষ্পতিবার (২৫এপ্রিল) উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দুর্ঘম কাগজীখোলাএলাকায় এনএসবি ব্রিকফিল্ড মালিক নাজমুল হক পিয়ারুকে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ঐ দিন খোটাখালী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের সময় ড্রেজার মেশিন সহ সরঞ্জাম জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি। এদিকে ৭ ইটভাটার মধ্যে শুধুমাত্র একটি ইটভাটায় প্রশাসন অভিযান চালালে এলাকার পরিবেশবাদী মানুষের মাঝে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উখিয়ার হলদিয়া পালং এর ফজল করিম মেম্বার ওরফে কালা ফজল, উখিয়ার মনজুর, উখিয়ার হায়দার আলী, কক্সবাজারের চকরিয়া দুলাহাজারার নাজমুল হক পেয়ারু, নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জহির এর ইটভাটাসহ ৭ ইটভাটার মালিক দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের গহীন বনে ইট তৈরি করে আসছেন কোন আইন না মেনে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়িতে অবস্থিত সব ইটভাটাই গহীন বনে। চারপাশে পাহাড়, বন ও চাষযোগ্য জমি। পাহাড় ও টিলা কেটে বা চাষি জমির টপ সয়েল কেটে এ ইটভাটার কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার যে ৭টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে তার প্রতিটি ইটভাটার মালিক ইটপ্রস্তুত করতে নিয়ম না মেনেই অর্থলোভে পরিবেশ নষ্ট করে চলেছেন। পাহাড় কাটা, বন উজাড়করণ, কালো ধোঁয়া, ধুলা-বালির কু-লিতে আকাশে যেন ধুলা বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। অথচ ইটভাটা স্থাপনে সরকারের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটা করা যাবে না। আর অপরাপর স্থানে যারা ইটভাটা করবে তারা যেন লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত না করে। আর কেউ অনুমতি নিতে চাইলে জেলা প্রশাসক থেকেই অনুমতি নেবে। তবে কংক্রিট, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি কংক্রিট কম্প্রেসড ব্লক লাইসেন্স লাগবে না। আর কেউ লাইসেন্স ছাড়া ইট তৈরি বা ভাটা স্থাপন করলে ও পরিচালনা করলে অনধিক এক বছরের কারাদন্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। ইটভাটা সংক্রান্ত সর্বশেষ ২০১৩ সালের জারি করা নতুন এ অধ্যাদেশে আরও যে সব নির্দেশ রয়েছে, তা হলো ইটভাটার লাইসেন্স পেতে আবেদনপত্রে ইটভাটায় ব্যবহার্য মাটির উৎস হলফনামায় দাখিল করতে হবে। এছাড়া আইনে নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যা প্রয়োগ করবেন জেলা উপজেলায় আইনের সাথে জড়িত সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা।এতে আরও নির্দেশনা রয়েছে- ইট তৈরির জন্যে কৃষিজমি, পাহাড় ও টিলা কেটে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এটি ইট মালিকরা করলে কিংবা জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইট তৈরির জন্যে মজা পুকুর,খাল, বিল, খাড়ি, দীঘি, নদ-নদী, হাওর, চরাঞ্চন্ড হবেন সেই ব্যক্তি। আইনে আরও বলা আছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। আর নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত সালফার অ্যাশ, মারকারী বা এমন উপাদান সংবলিত কয়লা ব্যবহার করলে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর আইন লঙ্ঘণ করে ইটভাটা থেকে অতিরিক্ত গ্যসীয় নি:সরণ ও তরল বর্জ্য ফেললে এক বছরের কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে উপরের সকল প্রকার অনিয়ম এবং আইন ভঙ্গের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থাপিত ৭টি ইটভাটার মালিক ও পরিচালকরা। আরএসব অনিয়মের খবরে জটিকা অভিযান চালান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি। তিনি হায়দারের ইটভাটাসহ দুটি ইটভাটায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন। সম্প্রতি গহীন বনে ৭ ইটভাটার বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ২৫ এপ্রিল কাগজীখোলা এলাকার এনএসবি ব্রিকফিল্ডে কয়লার পরিবর্তে জ¦ালানী কাঠ ব্যবহার করায় পিয়ারুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে সূশীল সমাজের প্রত্যাশা মৌসুম শেষে হলেও বাকি ইটভাটাতেও ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিকেরা একটি সেন্টিকেট করে, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে এ ইটভাটা চালিয়ে আসছিল। ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত সর্ব স্থরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ম্যানেজ করার কারণে বড় অভিযান হয় না। মালিকেরা সর্ব সাকুল্যে তাদের ইটভাটা বৈধ বলে দাবী করেন। এই বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ৭ ইটভাটার কোন কাগজপত্র নেই। তাদের এ সব ভাটার বিষয়ে তিনি শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। বৃহস্পতিবার এনএসবি ব্রিকফিল্ডে অভিযান চালানোর পর বাকী ইটভাটার মালিকেরা রয়েছে আতংকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •