বার্তা পরিবেশক:

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও টেকনাফ উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমদ জমিরীর শপথ গ্রহণ নিয়ে নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন মাওলানা রফিক উদ্দীন। ফেরদৌস আহমদ জমিরীর শপথ গ্রহণের উপর জারি করা আদালতের স্থগিতাদেশের আদেশনামা গ্রহণ করতে গড়িমসি ও তা গোপন রাখার অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাওলানা রফিক উদ্দীন। কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই অভিযোগ করেন।

জানা যায়, ভাইস-নির্বাচিত ফেরদৌস আহমদ জমিরীর বিজয়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে পুন: ভোট গণনার দাবি করে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল কক্সবাজার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল-১ ও যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ-১ এর আদালতে ০১/২০১৯ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানী শেষে বিচারক সৈয়দ মুহাম্মদ ফখরুল আবেদীন মাওলানা ফেরদৌস আহমদ জমিরীর শপথ গ্রহণের উপর আগামী ৬ মে পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন। একই সাথে পূণ: ভোট গণনার জন্য ব্যালট পেপারসহ ঘানিব্যাগ ও আনুসাঙ্গিক সকল কাগজ পত্র নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে তলব করা হয়।

মাওলানা রফিক উদ্দীনের রফিক উদ্দীনের অভিযোগ, নিয়ম মতে যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ-১ এর আদালতের জারিকারক ছাদেক মিয়া গত ২৪ এপ্রিল সকালে সাড়ে ১০টায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরদৌস আহমদ জমিরীর শপথ গ্রহণের উপর দেয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের আদেশনামা জমা দিতে যান। কিন্তু ওই অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি। একই দিন সকাল থেকে ওই আদেশনামা জমা দিতে চেষ্টা করেন বাদি মাওলানা রফিক উদ্দীনও। তবে সারাদিন গড়িমসি করে অফিস সময়ে তা গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মোল্লা। শেষ পর্যন্ত নানাভাবে তদবির করলে অফিস সময়ের প্রায় দু’ঘন্টা পর ওই দিন (২৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে আদেশনামা গ্রহণ করেন মাসুদুর রহমান মোল্লা। অন্যদিকে ওই দিন গ্রহণ না করায় জারিকারক ছাদেক মিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায়ও দ্বিতীয়বার আদেশনামা জমা দিতে যান। কিন্তু তখনও নানা অজুহাত দেখিয়ে জারিকারকের দেয়া আদেশনামা গ্রহণ করেনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। তা গ্রহণ না করার বিষয়টি জারিকারক লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।

মাওলানা রফিক উদ্দীনের রফিক উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, আদালতের ইস্যু করা জারিকারক কর্তৃক জমা দেয়া স্থগিতাদেশের আদেশনামা গ্রহণই করেনি রিটার্নিং কর্মকর্তা। আমার কাছ থেকে গ্রহণ করা আদেশনামাটিও গোপন করে রাখে। অথচ তা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রেরণের যতেষ্ট সময় ছিলো।

মাওলানা রফিক উদ্দীন জানান, আদালতের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও মাওলানা ফেরদৌস আহমদ জমিরী শপথ নিতে যাওয়ায় নিজের তিন আইনজীবিসহ তিনি সরাসরি বিভাগীয় কশিনারের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বিভাগীয় কমিশনার তাদেরকে জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই সংক্রান্ত কোনো আদেশনামা সেখানে পৌঁছানো হয়নি। তাই মাওলানা ফেরদৌস আহমদ জমিরীর স্বাভাবিকভাবে শপথ নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মাওলানা ফেরদৌস আহমদ জমিরীর সাথে অনৈতিক যোগসাজস করে আদালতের আদেশনামা গ্রহণে গড়িমসি করেন এবং গ্রহণ করলেও তা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে না পাঠিয়ে অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে গোপন রেখে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই অভিযোগে আদালতের শরণাপন্ন হবেন বলে জানিয়েছেন মাওলানা রফিক উদ্দীন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদুর রহমান মোল্লার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা। নিয়ম মেনে সব কিছু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ টেকনাফ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাওলানা ফেরদৌস আহমদ জমিরী (তালা) ১৮ হাজার ৩৬৮ ভোট পেয়ে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ্ব মাওলানা রফিক উদ্দিন (মাইক) পান ১৭ হাজার ১১৭ ভোট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •