পেকুয়ায় শরতঘোনা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন

রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া:

পেকুয়ায় মগনামা ইউনিয়নের শরতঘোনা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। ১ কিলোমিটার বিস্তৃত জায়গায় পাউবোর বেড়িবাঁধ গত ৩ বছর আগে থেকে বিলীন হয়ে যায়। পাউবো মগনামায় বেড়িবাঁঁধ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছেন। কুতুবদিয়া চ্যানেলের খরস্রোতা প্রচন্ড ঢেউয়ের আঘাতে শরতঘোনা চরখানাই অংশসহ ওই ইউনিয়নের পশ্চিম অংশ সাগর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ জোরদার করছে। বিগত ২ বছর আগে মগনামা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ সংষ্কার কাজ আরম্ভ করা হয়েছে। কাঁকপাড়া থেকে উত্তর মগনামা শরতঘোনা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুন:সংষ্কার কাজ বাস্তবায়ন চলছে। পাউবোর কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সমুহ ওই কাজ বাস্তবায়ন করছে। সুত্র জানায়, ওই ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংষ্কারের জন্য উল্লেখযোগ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের নাম উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল। নির্মাণ ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্টানটি বেড়িবাঁধ নির্মাণে মগনামা ইউনিয়নের সিংহভাগ কাজের দায়িত্বভার প্রাপ্ত হন। প্রথম ধাপে মাটি ভরাট করবে বেড়িবাঁধে। এরপর টেকসই বেড়িবাঁধ সংষ্কারের জন্য তারা মাটি লেবেল ও কনপেকশনসহ বেড়িবাঁধের স্থায়ীত্বের জন্য কাজ করবে। বিশেষ করে নদী ও সমুদ্রের চর পয়েন্টে তারা জিও ট্যাক্সটাইল বেড়িবাঁধে মাটির উপরি অংশে বিচিয়ে দেবে। মাটির ক্ষয় রোধ করতে বেড়িবাঁধে বসানো হচ্ছে ব্লক। পাথরী কংক্রিট দ্বারা উৎপাদিত এ সব ব্লক বেড়িবাঁধে স্থাপন করার কাজও চলছে। উপজেলার সমুদ্র তীরবর্র্তী ইউনিয়ন মগনামায় বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। দক্ষিনে পার্শ্ববর্তী উজানটিয়া ইউনিয়নের পেকুয়ারচর উজানটিয়া-মগনামার বিভক্তি পয়েন্ট থেকে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন চলছে। কাঁকপাড়ার দক্ষিন মাজার পয়েন্ট থেকে শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটারে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ এখনো অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী স্কুলের উত্তরদিকেও প্রায় ৫ চেইন অংশে পাউবোর বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। গত ৫ বছর আগে থেকে মাজার পয়েন্টে বেড়িবাঁধ একই চিত্র। সে সময় থেকে দফায় দফায় বেড়িবাঁধের ওই অংশ দিয়ে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। পানির প্রচন্ড ধাক্কা ও লোকালয় প্লাবিত হওয়ায় মগনামার দক্ষিন-পশ্চিম দিকের কাঁকপাড়াসহ দুর্গম এলাকাসমুহ থেকে শত শত মানুষ বাপ-দাদার ভিটা বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস শুরু করে। কাঁকপাড়া থেকে অর্ধশতাধিক পরিবার বেড়িবাঁধ শংকায় এলাকা ছেড়েছে। একইভাবে জালিয়াপাড়া, ঢলন্যাপাড়া, হাড়িরপাড়া, পশ্চিমকুল, সেকান্দরপাড়া ও উত্তর মগনামার ফতেহআলীরমার পাড়া জেটিঘাটে উত্তর অংশ উত্তরপাড়া, চরকানাই, শরতঘোনা থেকেও বিপুল মানুষ এলাকা ছাড়ে। শরতঘোনার আব্বাছ মিয়ার ঘোনা থেকে দক্ষিনে হুমায়ুন কবির চৌধুরীর মৎস্যঘোনা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে পাউবোর বেড়িবাঁধ নেই। এ সব অংশে ৫ বছর আগে থেকে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। মগনামা ইউনিয়ন বিগত কয়েক বছরে বেড়িবাঁধের মারাত্মক দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করেছেন। ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য জসিম উদ্দিন জানায়, চরখানা ও হুমায়ুন কবির চৌধুরী মৎস্যঘের এলাকাটি আমার অধিকৃত ওয়ার্ড। ওই ১ কিলোমিটারে নেই বেড়িবাঁধ। সমুদ্রের পানির ধাক্কায় বহুবার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। মৎস্য ও লবণ চাষীরা রিং বাঁধ দিয়ে পানির দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসী আপাতত রক্ষা পেয়েছে। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান সাহেব নিজেও বেড়িবাঁধের জন্য অর্থ ব্যয় করেছে। ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ মাদু জানায়, শরতঘোনায় আমার ওয়ার্ড। ভোলানদীর মোহনা থেকে কাঁকপাড়া পর্যন্ত বেড়িবাঁধ বিলীন ছিল। আমার ধারনা মতে বেড়িবাঁধের বহুঝুঁকিপূর্ন অংশ সংষ্কার আওতায় এসেছে। চরখানাই ও শরতঘোনায় বেড়িবাঁধ নেই প্রায় ১ কিলোমিটারের। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে নিশ্চিত ওই পয়েন্ট দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের নৈতিক দৃষ্টি থাকলে আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে সব স্থান ঝুঁকিতে আছে সেগুলি চিহ্নিত করে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন করা। ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম জানায়, কাঁকপাড়ায় প্রায় ১ কিলোমিটারে বেড়িবাঁধের অবস্থা করুন। আমরা ধারনা করছিলাম বর্ষার আগে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মাটি ভরাটের আওতায় আসবে। তবে এ পর্যন্ত কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। বর্ষার সময় এসে গেছে। এ মুহুর্তে নদীতে পানি বেড়ে গেছে। রিংবাঁধটিও বিলীনের পথে। মাটি ভরাট না হলে অবশ্যই দ্রুত সময়ে জোয়ারের পানি মগনামায় প্রবেশ করবে। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম জানায়, খুবই কঠিন অবস্থায় মগনামা। সরকার টেকসই বেড়িবাঁধ সংষ্কারের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্ধ দিয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের ধীরে চলা নীতিতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্মুখীন। পাউবোর তদারকি ও নজরদারীর অভাববোধ প্রতীয়মান হচ্ছে। ঠিকাদারকে অনেকবার আমি বলেছি। যেহেতু জনগনের দুর্ভোগ আগাম দেখা যাচ্ছে। সেখানে নিশ্চুপ থাকা যায় না। পাউবো বান্দরবানের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: রাশেদুল হক জানায়, সরকারের বরাদ্ধের অনুকুলে ঠিকাদারী প্রতিষ্টানগুলো বেড়িবাঁধ সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করছে। যে দিকে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে থাকবে মাটি ভরাট সেখানে করতে হবে। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে নিয়েছি। ঠিকাদারকে বলে দেব জনগনের দুর্ভোগ লাঘব করতে পানি আটকানোর জন্য।

সর্বশেষ সংবাদ

লোহাগাড়ায় কার-মাহিন্দ্রা সংঘর্ষে নিহত ১: আহত ১৫

বর্ষার বিদায়ে বেদনার সুর বাজে

কোরবানির মাংস পেয়ে খুশিতে রোহিঙ্গা শিশুদের উচ্ছ্বাস!

চকরিয়ায় চিংড়ি জোনের শীর্ষ সন্ত্রাসী আল কুমাস গ্রেপ্তার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত : ট্রাস্কফোর্সের সভায় কোন সিদ্ধান্ত হয়নি

কোনোরকম যুদ্ধ ছাড়াই ভারতের ১১ যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত!

লোহাগাড়ায় মেট্রেসের গোডাউনে আগুন

সিএমপি স্কুল এন্ড কলেজ : ‘মেধার সাথে ভালো মানুষ গড়ার পরিচর্চা করে’

ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে কলকাতা থেকে লাশ হয়ে ফিরল দুই বাংলাদেশী

মেসেঞ্জারের কথোপকথন শুনতো ফেসবুক কর্মীরা

কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ একটু কমেছে : জেলায় ১৫৮ জন রোগী সনাক্ত

কাবুলে বিয়ে বাড়িতে বোমা হামলায় নিহত ৬৩

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ সাবেক সেনা কর্মকর্তার

‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগামী সপ্তাহটা চ্যালেঞ্জিং’

বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ চ্যাট

কাশ্মীর নিয়ে মোদির চতুর্মুখী নীলনকশা

খালেদার মুক্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যাবে বিএনপি

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন: পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

হাজিদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে ৪১৮ যাত্রী দেশে পৌঁছেছে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত কেরণতলী ঘাট