সুবর্ণ জয়ন্তী লগ্নে স্মরণ

‘মরিচ্যা পালং কলেজ’ প্রতিষ্টার স্বপ্ন দেখেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রহিম কন্ট্রাক্টর

সাইফুর রহিম শাহীন :

কক্সবাজার জেলার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ উখিয়ার মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মীসহ অসংখ্য গুণীজন এই বিদ্যালয়েরই ছাত্র। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টার ক্ষেত্রে যেমন অনেকের অনন্য অবদান রয়েছে, তেমনি প্রতিষ্টার পর শিক্ষার প্রসার ও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে রয়েছে আরো অনেক ব্যক্তির অবদান। তদ্মধ্যে শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এম এ রহিম কন্ট্রাক্টরের অবদান অনস্বীকার্য। যিঁনি বিদালয়ের আজীবন দাতা। তিনি রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ধেছুয়াপালং গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আব্দুল হাকিম সওদাগরের একমাত্র পুত্র এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দু’ দু’বার এই বিদ্যায়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই এই বিদ্যায়টিকে কলেজে রূপান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা। বিষয়টি বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের জানা থাকলেও আবার অনেকের অজানা হতেও পারে। সুবর্ণ জয়ন্তীর এই লগ্নে ইতিহাসের পাতায় চোখ মেলালে বিষয়টি সবার অনুধাবন হওয়ার কথা। তা হলো, মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড হতে কলেজ প্রতিষ্টার অনুমোদন লাভ করে। বিগত ১৯৯৬ সালের ৭ জানুয়ারী কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার খন্দকার ফজলুর রহমান। ১৯৯৫ সালের ১৫ জানুয়ারী পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রহিম কন্ট্রাক্টর এর অক্লান্ত পরিশ্রমে কলেজের অনুমোদন লাভ করে। তাঁর এই কর্মযজ্ঞের সারথি ছিলেন বন্ধু অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আবদুল হাই, শিক্ষক মো: আবদুল করিমসহ আরো অনেকে। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ২০ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। সুবর্ণ জয়ন্তীর এই মোক্ষক সময়ে আমরা এই বীর মুক্তিযোদ্ধার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

প্রসঙ্গত: মরিচ্যা পালং কলেজ অনুমোদন লাভ করলেও পাঠদান প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর যুক্তিসঙ্গত কারন অনেকেই হয়ত জানেননা। ওই সময়কার বাস্তব উপলব্ধিটা হলো, পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী ও অবকাঠামোর অভাবে শুরু করা যায়নি কলেজের কার্যক্রম। তবে মরহুম এম এ রহিম কন্ট্রাক্টরের আমলেই উন্নয়নের নতুন যাত্রা শুরু করে বিদ্যালয়টি।

পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হলো, বিদ্যায়টি সর্বপ্রথম বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসা, সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ক্রয়, প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা স্থাপন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শৌচাগার নির্মাণ, শ্রেণী কক্ষগুলো সম্প্রসারণ ও সজ্জিতকরণ ইত্যাদি। পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনিই সর্বপ্রথম দৃঢ় হস্তে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনেন। দৃঢ় মনোবলের অধিকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়ের স্বার্থে তাৎক্ষনিক যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ছিলেন। জানামতে, এটি ছিল তাঁর অন্যতম গুণাবলী। তিনি আজ বেঁচে নেই। কিন্তু মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম সবাই আজীবন স্মরন করবে।

লেখক: সাইফুর রহিম শাহীন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মরহুমের জ্যেষ্ট পুত্র।

সর্বশেষ সংবাদ

জেএসসিতে নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫জনের বৃত্তি লাভ

এনজিও জমানা বনাম কক্সবাজারবাসীর ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সেন্টমার্টিন পর্যটন শাখার কমিটি অনুমোদন

চট্টগ্রামে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছিনতাইকারী নিহত

রিক্সা চালিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগায় কলেজ ছাত্র আসকর আলী

নতুন এমপিও সুবিধা জুলাই থেকে

শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সন্ধ্যা ‘চতুরঙ্গ’ আজ

একেএম মোজাম্মেল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাহারছড়া ছাত্র-যুব সমাজের ইফতার মাহফিল

“ডিঙি ফাউন্ডেশন” এর ইফতার পার্টি সম্পন্ন

কক্সবাজার পরিবেশ, মানবাধিকার ও উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিল 

লামায় পাহাড় থেকে পড়ে কাঠুরিয়া নিহত

সহনশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই কামাল হোছাইনের আত্মা শান্তি পাবে

রিক্সা চালিয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে চায় আসকর আলী

ঢাকাস্থ কিশলয় প্রাক্তন ছাত্র সংসদ এর ইফতার মাহফিল

খুটাখালীতে কোস্ট ট্রাস্টের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান

চান্দেরঘোনা হিলফুলফুজুল ইসলামী ছাত্র পরিষদের ইফতার মাহফিল 

উখিয়ার ইনানীতে দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী রুহুল আমিন গ্রেপ্তার

পোকখালীতে ভূমিদস্যুদের দখল থেকে ২০ একর সরকারি ভূমি উদ্ধার

হোয়ানকে কবরস্থান দখলমুক্ত করার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ, জেলেদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ