বিশেষ প্রতিবেদক :

পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘কক্সবাজারের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় গতকাল মঙ্গলবার সায়মন বীচ রিসোর্টে । এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমদ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ উন্নয়ন) এসএম সরওয়ার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের প্রতিনিধি লে. কর্নেল আনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবেদিল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও রিও প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম পরিচালক মো: ফেরদৌস হোসেন খান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ও কক্সবাজার বন পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু।

সেমিনারে বলা হয়, ইসিএ এলাকা হিসেবে বর্তমানে সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া ও সমুদ্র সৈকত এখন পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ জন্য মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আগের পরিবেশ। পরিকল্পনা ছাড়া স্থাপনা গড়ে উঠায় দুষনের কবলে পড়েছে হোটেল মোটেল জোন। ৩২৫ টি হোটেলে মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র ৪৬টি। স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (এসটিপি) বাস্তবায়ন করেছে মাত্র ৬ টি হোটেল। কক্সবাজারে প্রতিদিন কঠিন ও তরল বজ্য সৃষ্টি হয় ৫০ থেকে ৭০ টন। ১২ টন বজ্য শোধানাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শোধানাগারে বজ্য আসে মাত্র ২ টন। এই তথ্য থেকে বুঝা যায়, কক্সবাজার পর্যটন শহরের পরিবেশ দুষনের ভয়াবহ অবস্থা।

সেমিনারে আরেক তথ্যে বলা হয়, দিন দিন স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এরমধ্যে পানি ব্যবহারের চেয়ে অপচয় হয় বেশি। পাহাড় কাটার মাটি, হ্যাচারির বজ্য ও হোটেল মোটেলের বজ্য সরাসরি যাচ্ছে সাগর ও নদীতে। বাঁকখালী নদী ভরাট, দখল হওয়ার কারনে শহরের লবনাক্ত পানি বেড়ে গেছে।

সেমিনারে বলা হয়, এসব নানা দুষনের কারনে কক্সবাজারে পর্যটক আসা হ্রাস পাবে এবং স্থানীয়দের জন্যও বসবাস অনুপযোগি হয়ে যাবে কক্সবাজারে। কক্সবাজারের পরিবেশ সুরক্ষার এ সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। তবে দেরি করা যাবেনা। দ্রুত উদ্যোগ নেয়া দরকার। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্বাবধানে খুরুস্কুলে পরিবেশবান্ধব ২২৫ পরিবারের জন্য আবাসন ভবন তৈরির করবে বলে সেমিনারে জানানো হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •