মোহাম্মদ হোসেন ,হাটহাজারী :

১৯৬২/৬৩ ইংরেজীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক ওয়াসা প্রকল্পের জন্য হুকুম দখলকৃত কৃষি জমি অব্যবহৃত এবং পরিত্যক্ত ভূমি মালিকদের নিকট ফেরৎ পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে ফতেয়াবাদ স্কুলের বিপরীতে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিক সমিতির ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১৩এপ্রিল) সকাল ১০টায় আলহাজ্ব কাজী এনামুল হকের সভাপতিত্বে ও আলহাজ্ব আলি আজগর চৌধুরীর পরিচালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন চিকনদন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান হাসান জামান বাচ্চু।

এসময় বক্তারা বলেন, ১৯৬২-৬৩ সনে চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি শোধানাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তদানিন্তন সরকার পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এল এ ২৫৬/১নং মামলা মূলে হাটহাজারী থানার অন্তর্গত দক্ষিণ পাহাড়তলি মৌজার ৫০ একর এবং এল এ ২৫৬/২ নং মামলা মূলে চিকনদন্ডী মৌজার ২৫ একর ধানী নালজমি হুকুম দখল করে মালিকগণকে মূল্যে টাকার ৫০% শতাংশ ক্ষতিপূরণ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ কিংবা গেজেট প্রকাশ না করেও চট্টগ্রাম ওয়াসা তড়িঘড়ি করে এল এ ২৫৬/১ মামলাভুক্ত দক্ষিণ পাহাড়তলির মৌজার কথিত হুকুম দখলীয় ৫০ একর জমির আন্দরে মাত্র ১০ একর জমিতে কৃত্রিম বালির পাহাড়সহ একটি গোডাউন এবং এল এ ২৫৬/২ নং মামলাভুক্ত চিকনদন্ডী মৌজার ২৫একরের আন্দর ১২ একর ভূমিতে দুইটি জলাধার খনন করে। কিন্তু ১৯৬৪ সনে তদানিন্তন কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারনা পাল্টে এল এ ১৪,৭৯,৮০/১৯৬৮-৬৯ সনের মামলা মূলে বর্তমানে চান্দগাও থানার আওতায় মোহরা এলাকায় বিশাল পরিমাণ জমি হুকুম দখল ও অধিগ্রহণ করায় ফতেয়াবাদ প্রকল্পের জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে অপমৃত্যু ঘটে প্রকল্পটির। তদুপরি আমরা জমাজমির অবমুক্তির জন্য তৎকালীন ভূমী মন্ত্রীর বরাবরেও স্মারক প্রদান করি এবং স্মারক সূত্রে সচিব মহোদয়ের নির্দেশ ক্রমে জেলা প্রশাসন ৮৫ সনের ২৭ এপ্রিল ৮১২/এল এ নং মূলে মন্ত্রণালয়কে ফতেয়াবাদ প্রকল্প পাঁচলাইশে (চাঁন্দগাও) স্থানান্তরিত করা হয়েছে জানিয়ে অবহিত করেন এবং কৃষি জমির প্রচন্ড স্বল্পতার প্রেক্ষিতে হুকুম দখলীয় বিস্তৃত জমির অব্যবহৃত রাখার কোন যুক্তি নেই মর্মে পরিত্যক্ত জমিগুলো মালিক বরাবরে অবমুক্তির সুপারিশও করেন। বক্তারা বলেন এখনও আমরা মালিকরা পরিত্যক্ত ভূমি ও জলাধার দুটিতে ভোগ দখলে আছি। তারা আরো বলেন ১৯৯০ সাল থেকে ওয়াসা, জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয় পরিত্যক্ত জায়গাগুলো অবমুক্ত করণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও অদৃশ্য কারণে তা আজ অব্দি বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা ভূমি মালিকগণ অত্যন্ত গরীব ও অসহায় দীর্ঘকাল থেকে আমাদের মৌরশী একমাত্র সম্বল ফতেয়াবাদ ওয়াসা প্রকল্পের অধীনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে আমরা স্থানীয় এম. পি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, নেতা নেত্রীবৃন্দ সহ উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের দারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। বাধ্য হয়ে আমরা মাননীয় হাইকোর্ট ডিবিশনে মামলা দায়ের করেছিলাম যার নং- ৪২৪০/২০০০ইং কিন্তু মামলার রায়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় পুণরায় মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে আপিল মামলা করি যা এখনও চলমান।

তাই আজকের এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে আমাদের ভূমিগুলো আমরা আইনগতভাবে ফেরৎ পাই। মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, মোরশেদুল আলম চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, হাজী আহমদ হোসেন চৌধুরী, প্রফেসর রায়হান মাহমুদ, আলি নাসের চৌধুরী, মোঃ মহসিন, মোঃ ইউসুফ খাঁন আলমগীর, সাংবাদিক রফিক, মোঃ হেলাল, জিন্নাত আলি বাদশাহ সহ অনেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •