ইমাম খাইর, সিবিএন:
সিগারেটের আগুন থেকে কক্সবাজার শহরের লালদীঘির দক্ষিণ পাড়ে জিলানী মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করেছে সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক জানান, মার্কেটের ছাদে ছেঁড়া কাপড়, ভাঙা ককশিট ও প্লাস্টিক পণ্যসহ নানা জিনিস জমিয়ে রাখা হতো। তিন তলার ছাদে ব্যাচেলর বাসায় রান্না করতো কেউ কেউ। কেউ হয়তো সিগারেট খেয়ে শেষ অংশটি ফেলে দেয়ায় আগুন লেগে থাকতে পারে। ছেঁড়া কাপড়, ভাঙা ককশিট ও প্লাস্টিক পণ্যতে আগুণ ধরার কারণে ধোয়া বেশি দেখা গিয়েছে। সেভাবে আগুণ বিস্তৃতি লাভ করেনি।
তিনি জানান, শনিবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সোয়া ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন সুত্রপাতের ২০ মিনিটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ঘটনাটি তাদের স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে অনুমান ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। মো. আব্দুল মালেক মনে করেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরী হলে ভয়াবহ আকার ধারণ করতো। অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হতো স্থানীয়দের।  
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, হঠাৎ জিলানী মার্কেটের ছাদের ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যায় মার্কেটের নিচতলার রিচম্যান-লুবনান শো-রুম, পূর্বপাশে পত্রিকা অফিস সমেত আসাদ কমপ্লেক্স, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস, অগ্রণী ব্যাংক ও পশ্চিমে বিরাম হোটেলসহ শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
জিলানী মার্কেটের নিচ তলার ব্যবসায়ী শাহাজাহান জানিয়েছেন, মার্কেটে কাপড়ের দোকান, মোবাইল, কম্পিউটার ও সুপার শপ রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আছে বিভিন্ন মোবাইল সেট কোম্পানির গুদাম। রয়েছে আবাসিক হোটেল। যদি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না যেত, তাহলে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হতো ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছে, জিলানী রিসোর্টের আবাসিক রুমে মাদক সেবন চলতো।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। তিনি ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •