মহসীন শেখ, কক্সবাজার :
দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঢাকা ব্যাংক ডিপিএস খাতে গ্রাহকের সাথে ভয়াবহ প্রতারণায় নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন গ্রাহক। অদ্ভুদ ও রহস্যজনক এক নির্দেশনার দোহাই দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবের মেয়াদপূর্তির আগ মুহুর্তে গ্রাহকের সাথে এমন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, অনেক গ্রাহকের হিসাব বন্ধ করে দিয়ে টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা ব্যাংকে বিভিন্ন মেয়াদে ও বিভিন্ন কিস্তিতে মাসিক টাকা জমা দেয়ার (ডিপিএস) হিসাব খুলেন অনেক গ্রাহক। ১০ বছর, ১২ বছর সহ বিভিন্ন মেয়াদে মাসিক কিস্তি পরিশোধের পর যেই হিসাব মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সময় হয় ঠিক তখনই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে বিভিন্ন অজুহাত তুলে নির্দেশনা দিয়ে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেয়। যা গ্রাহকদেরও জানানো হয় না। এ অবস্থায় গ্রাহক যখন ব্যাংকে যোগাযোগ করেন তখন নানা হয়রানীর মাধ্যমে সময় ক্ষেপন করা হয়। এসময় বিভিন্ন অজুহাত তোলা হয়। অথচ হিসাব খোলার সময় গ্রাহককে এসব অজুহাতের কোন কথায় বলা হয়না, উল্টো গ্রাহককে নানা প্রলোভন দিয়ে হিসাব খোলে আমানত সংগ্রহ করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, ৭/৮ মাস আগে হঠাৎ করেই ঢাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি নির্দেশনা জারি করে যে, যাদের কয়েক কিস্তি বকেয়া রয়েছে তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়া হবে। এসব নির্দেশনা গ্রাহকদের না জানিয়েই ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার কর্মকর্তারা অনেক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছেন। যার কারণে ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার অনেক গ্রাহকই বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শিকার হচ্ছেন হয়রানীরও।
ঢাকা ব্যাংকের বেশ কয়েকজন গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, ১০/১২ বছর কিস্তির টাকা পরিশোধ করে যখনই ডিপিএস হিসাবটি মেয়াদোত্তীর্ণের পর্যায়ে চলে আসে তখনই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে তাদের না জানিয়ে ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেন। পরে কয়েক কিস্তি বকেয়া থাকাসহ বিভিন্ন অজুহাতে লভ্যাংশ না দেয়ার বা কম দেয়ার একটি ফন্দি তৈরী করেন। অথচ এ ধরণের নিয়মের কথা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের হিসাব খোলার সময় অবহিত করেননি। এছাড়া তাদের জানামতে বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক কিস্তি বকেয়া থাকলে তা পরবর্তীতে সুদসহ আদায় করে তা সমন্বয় করা হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকা ব্যাংক যে পদ্ধতিতে হিসাব বন্ধ করে দিয়ে লভ্যাংশ কম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গ্রাহকের সাথে বড় ধরণের প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব গ্রাহক আরও জানান, মূলত: নি¤œমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকজনই দীর্ঘমেয়াদি একটি টার্গেট নিয়ে সারা মাস থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে সঞ্চয় করেন। যাতে নির্দিষ্ট সময় পর গিয়ে ওই টাকা দিয়ে কিছু একটা করবেন বলে। সেই স্বপ্নও দেখান ব্যাংকগুলো। আর বেশিরভাগ ডিপিএস খাতে সঞ্চয় করেন নারীরা। এখন ব্যাংক তাদের না জানিয়েই ইচ্ছেমত হিসাব বন্ধ করা ও লভ্যাংশ কেটে রেখে তাদের বড় ধরণের ক্ষতির মুখে ফেলে স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতারণার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান বেশ কয়েকজন গ্রাহক।
ফারজানা ইয়াছমীন নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০০৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাসিক দুই হাজার টাকা কিস্তিতে একটি ডিপিএস হিসাব খুলেছিলেন তিনি। চলতি বছর ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি হিসাবটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণের দেড় মাস পার হলেও লভ্যাংশ ও মুল টাকা গ্রাহকের বরাবরে পরিশোধ করা হয়নি। এ অবস্থায় ওই নারী লভ্যাংশসহ টাকা ফেরত চেয়ে গত ৭ মার্চ ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা ব্যবস্থাপকের বরাবরে আবেদন করেন। আর ওই আবেদনের এক মাস পরও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাকে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওই নারী গ্রাহকের। তার মতো আরও অনেকেই ঢাকা ব্যাংকে হিসাব খুলে প্রতারণা ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকের সাথে প্রতারণা নয়, যাদের কিস্তি বকেয়া রয়েছে তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকের হেড অফিসের একটি নির্দেশনার আলোকে প্রতি মাসেই বেশ কয়েকটি করে হিসাব বন্ধ করা হচ্ছে। নির্দেশনাটি গ্রাহকদের জানানো হয়েছে দাবী করে তিনি আরও বলেন, এ ধরণের নির্দেশনা আগে ছিল না। ৮/৯ মাস আগে তা জারি করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •