মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় পেয়েছেন।
এ রায়ের ফলে নির্বাচন কমিশন এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করতে আর কোন আইনী বাঁধা থাকলোনা। গত বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের ফুল বেন্ঞ্চে আপীল নম্বর-৮৬৮/২০১৯ এর শুনানী শেষে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সা.) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা কর্তৃক বিগত ৮ মার্চ ঘোষিত ফলাফল আইনগতভাবে সঠিক ও বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। বিষয়টি এডভোকেট ফরিদুল আলম চৌধুরী সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য বিগত ২৬ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আজিজুল হক সাগর মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র বাছাইকালীন সময়ে অগ্রণী ব্যাংক লিঃ, জালালাবাদ শাখা, চট্টগ্রামের ঋণখেলাপী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ২৫০ জন ভোটারের দাখিলকৃত স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় আজিজুল হক সাগর এর মনোনয়নপত্রটি বাছাইকালে রিটার্নিং অফিসার বাতিল করে দেন। আজিজুল হক সাগর তার মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিচারক ও কক্সবাজারের জেলা প্রসাশক মোঃ কামাল হোসেনের আদালতে আপীল দায়ের করেন। ৫ মার্চ উক্ত আপীল আবেদনের শুনানী শেষে জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসারের আদেশ বহাল রাখেন। ঋণ খেলাপীর ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ আইনানুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্টান হতে গৃহীত কোন ঋণ খেলাপী অবস্থায় রাখা যাবেনা। চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক সাগর ২৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কুতুবদিয়ায় সুদ আসলে ৮৯,৭১৯ টাকা এবং ২৮শে ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দু’দিন পর অগ্রণী ব্যাংক লিঃ, জালালাবাদ শাখায় ১,৮০,০০০ টাকা খেলাপীঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু আইনী বিধান মতে মনোনয়নপত্র জমা।দেয়ার দিনে ঋণ খেলাপী থাকার কারণে আপীল কর্তৃপক্ষ আজিজুল হক সাগরের আপীল আবেদন খারিজ করে দেন। তাছাড়া আজিজুল হক সাগর খেলাপী ঋণের বিষয়টি তার দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ণ এবং হলফনামায় উল্লেখ না করে তথ্যগোপন পূর্বক উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা লংঘন করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক সাগরের মনোনয়নপত্র বাতিল হলে রিটার্নিং অফিসার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা মোতাবেক বৈধ প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেন এবং এডভোকেট ফরিদুল ইসালাম চৌধুরীকে একমাত্র বৈধ প্রার্থী ঘোষনা করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ৭ মার্চ এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা একমাত্র প্রার্থী হিসাবে এডভোকেট ফরিদুল ইসালাম চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
উক্ত বিষয় গোপন করে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক সাগর নিজের প্রার্থীতা ফিরে পেতে গত ১০ মার্চ হাইকোর্টে রীট পিটিশন নম্বর-২৮৮৯/২০১৯ দায়ের করেন। গত ১১ই মার্চ শুনানী শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এম হাফিজুল ইসলামের অবকাশকালীন দ্বৈতবেঞ্চ আজিজুল হক সাগরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা পূর্বক তাকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল নম্বর-৮৬৮/২০১৯ দায়ের করলে উক্ত মামলাটি ১১ এপ্রিল চুড়ান্ত শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়। একইসাথে মামলাটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আজিজুল হক সাগরকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার আদেশ স্থগিত রাখার জন্য এবং ৮৬৮/২০১৯ নম্বর মামলাটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। ফলে ২৪ মার্চ কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ১১ এপ্রিল সি,পি-৮৬৮/২০১৯ নম্বর আপীল মামলাটি প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেন সহ ৬জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপীল বিভাগের ফুলবেন্ঞ্চ শুনানী শেষে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আজিজুল হক সাগরের মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশ এবং এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষনা করে গণ বিজ্ঞপ্তি জারীর আদেশ বহাল রাখেন।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে এডভোকেট ফরিদুল আলম চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশের সকল বাঁধা অপসারিত হলো। আপীল বিভাগে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সিনিয়র এডভোকেট এ.এম আমিন উদ্দিন, এডভোকেট ছৈয়দ মামুন মাহমুদ, এডভোকেট মুহিব উল্লাহ তানবীর, এডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম এবং ব্যারিষ্টার আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। আজিজুল হক সাগরের পক্ষে মামলা শুনানী করেন সিনিয়র এডভোকেট ও সাবেক এটর্ণি জেনারেল এ.এফ.এম হাছান আরিফ ও এডভোকেট শেখ মোঃ মোরশেদ। কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এখন শুধু পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সুত্র জানিয়েছে-উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়া গেলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবর পাড়ার মরহুম এরশাদ আলী চৌধুরী ও মরহুম মেহের আনকিচের পুত্র এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বড়ঘোপ ফাজিল মাদ্রাসা, কুতুবদিয়া হাইস্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি, কুতুবদিয়া মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কুতুবদিয়া সরকারি কলেজের সাবেক সহ সভাপতি এবং কলেজটি জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্যোক্তা। এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম ও তাঁর সহধর্মিনী তছলিমা চৌধুরী দম্পতির একমাত্র কন্যা ফাবিহা তাহসিন একজন আর্কিটেক্ট, প্রথম পুত্র আবেদীন এরশাদ ফাহিম ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ সেমিস্টারের কৃতি ছাত্র ও কনিষ্ঠ পুত্র অত্যন্ত মেধাবী ফারদিন বিন ফরিদ ঢাকাস্থ উত্তরা রাজউক মডেল কলেজে এইচএসসি শেষ বর্ষের ছাত্র।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •