হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর

দিনদিন পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। বাড়ছে নির্মমতা। কাঁদছে মানবতা। লোপ পেতে বসেছে নৈতিকতা। যেন আইয়্যামে জাহেলিয়াতের পদধ্বনিই শুনতে পাচ্ছি।
যেখানে আদর্শিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত সুমানুষ তৈরী হওয়ার কথা সেরকম অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই আজ অনৈতিক ও অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছে স্বয়ং শিক্ষার্থীরাই। সাম্প্রতিক সময়ে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের যৌন লিপ্সার শিকার হওয়ার পরিণতিতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ছাত্রীর করুণ মৃত্যু, স্কুল প্রধান কর্তৃক ধর্ষিতা হয়ে ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক নির্মমভাবে শিশু শিক্ষার্থীকে হত্যা ইত্যাদি লোমহর্ষক ঘটনায় আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যেখান থেকে মানবিক চেতনাবোধের উজ্জীবন, আদর্শের বিকাশ ও নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ হওয়ার কথা সেই পাঠশালায় কেন এমন বর্বরতার মহড়া! যারা নীতি-নৈতিকতার অতন্দ্র প্রহরী মানুষ গড়ার কারিগর নামক সেই শিক্ষকদের কাতারে এমন নরপশুদের অনুপ্রবেশ! যাদের স্নেহ- মমতার নির্মল পরশে, পাঠশালার পবিত্র ক্যাম্পাসে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের উন্নত আদর্শ, মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার প্রভাবে আলোকিত মানুষ হয়ে বেড়ে উঠার কথা তাদের হাতেই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীর নির্মম হত্যাকান্ড! মাদকাসক্তিসহ সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় সর্বোচ্চ সম্মানের পাত্র ইমাম সাহেবের ওপর চেয়ারম্যান কর্তৃক বর্বর কায়দায় নির্মম নির্যাতন! যারা আদর্শিক অভিযাত্রায় পথনির্দেশক সে রকম অনেকের আদর্শচ্যুতি! সেবার মানসিকতা পরিহার করে স্বার্থান্ধতা ও ক্ষোভের বশবতী হয়ে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালনের নামে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা বঞ্চিত করা এমনকি অনেক রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া! দেশের এক উচ্চ শিক্ষায়তন যেখানে মাদকের কুফল ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়দীপ্ত সুনাগরিক গড়ার কথা সেখানে অতিরিক্ত মাদক সেবনে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু! সর্বত্র অশ্লীলতা, বেহায়পনা, দূর্নীতি, দূরাচার, মিথ্যাচারের সয়লাব! এসবই জাহেলী যুগের বর্বরতার পদধ্বনি। আর একের পর এক অগ্নিকান্ড, শিলাবৃষ্টিসহ ভয়াবহ দূর্যোগ, দুর্বিপাক এসব পাপাচারেরই ভয়াবহ পরিণাম।

এরকম করুণ পরিস্থিতির উত্তরণে আমাদের প্রয়োজন পাপাচার ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর দরবারে তওবা করা। শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার সাথে সাথে আত্মশুদ্ধিরও প্রশিক্ষণ দেয়া। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ধর্মীয় চেতনাবোধ জাগ্রত করা। শিক্ষক, চিকিৎসক ও জনপ্রতিনিধি সকলের মধ্যে সেবার মানসিকতা ও নৈতিক কর্তব্যবোধ সৃষ্টি করা। অভিভাবকদের নিজেদের সন্তান -সন্ততিদের পড়া-লেখাসহ সার্বিক বিষয়ে যথাযথ দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা। অন্যায়-অনাচারের সাথে যেই জড়িত হোক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা। সর্বোপরি সবরকমের অন্যায়- অবিচার, দূর্নীতি, দূরাচারের বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে দূর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

লেখক
সভাপতি
রামু লেখক ফোরাম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •