ফাইল ফটো

জসীম উদ্দীনঃ

মিয়ানমারের মগ বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মমতা দেখিয়েছে স্থানীয়রা। প্রথম দিকের করুন দিনগুলোতে নিজে না খেয়ে খাওয়েছে, না পরিয়ে পড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের। থাকার জন্য ছেড়ে দিয়েছে নিজেদের ঘর-বাড়ী।কিন্তু সে রোহিঙ্গা আজ ‘কালসাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে অনেকেই হারিয়েছেন নিজেদের ভিটে বাড়ির দখল।আশ্রয়ীত রোহিঙ্গারা পরবর্তী দল বেঁধে এসব স্থানীয়দের ভিটেমাটি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

যতই দিন গড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা ততই বেশি মারমুখী হয়ে উঠছেন। কারনে অকারনে স্থানীয়দেরকে রাস্তাঘাটে মারধর এখন নিত্য দিনের ঘটনা। এমন কি রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের নিজ বাসাবাড়ি ও বাজার থেকে তুলে নিয়ে মারধর করার মত ঘটনাও এখন অহরহ। রোহিঙ্গাদের দাপটে স্থানীয়রা অসহায়।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি মাসে হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা রোহিঙ্গাদের হাতে শারীরক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এ জন্য থানায় গিয়ে প্রতিকার চেয়ে কোন লাভ হয়না। পৃথিবীর বৃহত্তর এ শরণার্থী শিবিরে দুষ্কৃতিকারীদের চিহৃত করে শাস্তি নিশ্চিত করার মত জনবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেই। তাই এখন থানায়ও কোন অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়রা যেতে চায়না।

এ কারনে এরেই মধ্যে আগেভাগে রোহিঙ্গাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে স্থানীয়দের অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কেউবা যাচ্ছে।

এসব স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী, রোহিঙ্গাদের কারনে তাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাদের কারণে শিক্ষা ব্যাবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সত্তর বছরের বায়োবৃদ্ধা নুরুল আলম এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের হাতে তিন দফায় মার খেয়েছেন। উখিয়ায় পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে তার বাড়ি। পেশায় তিনি দিনমজুর।

নুরুল আলম জানান, প্রথমবার স্থানীয় এক স্কুল ছাত্রকে বাঁচাতে গিয়ে, দ্বিতীয়বার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কৃষিকাজ করতে গিয়ে মার খেয়েছে। এরপর আরো একবার মার খেয়েছে রোহিঙ্গাদের হাতে। প্রতিকার না পেয়ে রাগে ক্ষোভে বাধ্য হয়ে ভিটেবাড়ি পানির দামে বিক্রি করে দিয়েছে।
তিনি এখন সপরিবারে কক্সবাজারের জুমনগর এক পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন।

ক্যাম্পে এনজিওতে কর্মরত রোজিনা নামের এক তরুণী জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের চাহিদা মতো সহযোগিতা করতে না পারলে কর্মরত নারীদের অশ্রাব্য ব্যবহার করে।

সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী বালুখালীর আবদু রহমান সৌদি থেকে প্রবাসীদের হাতে পায়ে ধরে ৩০ লাখ টাকার অনুদান এনেছিলেন রোহিঙ্গাদের জন্য। তিনি ওই টাকা ফেরৎ চান।

তার দাবী, রোহিঙ্গারা যেন ইসরালি সৈন্য বাহিনী, স্থানীয়রা অসহায় ফিলিস্তিনি। তাই রোহিঙ্গা নামক ইসরালি সৈন্যদের দান করা কোন মানে হয় না।

রহমান ওই টাকা ফিরে পেলে তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দিতে চান।

উখিয়া পালংখালীর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন চৌধুরী জানান, অনেকে ভিটেমাটি বিক্রি করে চলে যাচ্ছে। এটা আমিও শুনেছি।

তিনি বলেন, যারা রোহিঙ্গাদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, বা তাদের ক্ষতি হচ্ছে তারা হয়তো চলে যাচ্ছে। আবার অনেকে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করার উদ্দ্যেশে এলাকা ছাড়ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •