ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
৮ এপ্রিল দিবাগত রাত প্রায় ৯ টা। কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ফায়ার সার্ভিসের সামনে অনুমান ৪৫ বছর বয়সী লোককে মারধর করছে আরেক ব্যক্তি। কঠিনভাবে মারা হচ্ছে। চোখ মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। আত্মরক্ষার জন্য চিৎকার দিচ্ছে লোকটি। কাকুতি মিনতি করেও ছাড় দেয়া হচ্ছে না তাকে। প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনাটি জড়ো হয়ে দেখছে আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা। অনেক মানুষ উপভোগ করেই যাচ্ছে ঘটনাটি। কেউ সাহস করছে না এগিয়ে যেতে।
ঠিক এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য। তিনি হয়তোবা সবেমাত্র ডিউটি শেষ করেছেন। পরনে রয়ে গেছে নির্ধারিত ইউনিফর্ম। তিনি এগিয়ে গেলেন। রক্তাক্ত মানুষটিকে উদ্ধার করলেন। প্রতিবাদও করলেন। কথা শুনলেন আশপাশের সবার। জানালেন, এভাবে একজন মানুষকে প্রকাশ্যে মারধর উচিত হয়নি।
তখন হামলাকারী ব্যক্তি নিজেকে অনেক ক্ষমতাবান দাবী করে কিছুক্ষণের জন্য বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে যান।
পুলিশ সদস্য জানালেন- কেউ দোষ করলে বিচার আছে। আইন-আদালত আছে। বৈঠক অথবা কথার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। এভাবে মারধর করা মানুষের আচরণের পর্যায়ে পড়ে না।
কথা বলতে বলতে দোকান থেকে পানি নিয়ে আহত পিতার বয়সী লোকটির রক্তাক্ত হাতমুখ পরিস্কার করে দিলেন। ওই সময় উপস্থিত লোকজনের সহযোগিতায় তাকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০০ টাকা আদায় করে দেন। এরই মধ্যে দ্রুত সটকে পড়ে হামলাকারী ব্যক্তি। সঙ্গত কারণে হামলাকারীর পরিচয় গোপন রাখা হলো।
রক্তাক্ত হওয়া ব্যক্তি ছিলেন একজন রিকশা চালক। তার নাম ঠিকানা জানা যায়নি।
আর পুলিশ সদস্যের নাম অপূর্ব। তিনি কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মানবিক ও কর্তব্য পরায়ন বলে সবাই তাকে চেনে।
স্যালুট অপূর্ব। আপনি ট্রাফিক পুলিশের সম্মান বাড়ালেন। নিজের মানবিক বোধকে স্পষ্ট করলেন। কর্তব্যের বাইরেও কর্তব্য আছে -তা দৃষ্টান্ত দেখালেন।

সাংবাদিক আরফাতুল মজিদের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত।
ছবি- মুহাম্মদ তৈয়ব
সহকারি প্রধান শিক্ষক, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •