জহির খন্দকার , ঈদগড় :

রামু উপজেলার ঈদগড়ের বহুল আলোচিত ডা: মহিউদ্দীন হত্যা মামলায় অবশেষে সিআইডি পুলিশ আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। কক্সবাজারে জেলা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ওবাইদুল হক গত ৭ মার্চ এই চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। আজ ৮ এপ্রিল উক্ত মামলার ধার্য্য তারিখ ছিল। আজ ধার্য্য তারিখে বাদী জাহেদা বেগম উক্ত চুড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করলে আদালত তা শুনানীর জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন ধার্য্য করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫/৬/২০১৬ ইং তারিখ দিবাগত রাত অনুমান দেড় ঘটিকায় রামু উপজেলার ঈদগড় মোহাম্মদ শরিফ পাড়া গ্রামের মৃত ফয়েজ আহাম্মদের পুত্র ডা: মহিউদ্দীন তার ছোট ভাই সিরাজ উদ্দীন দরজা জানালা বিহীন একটি দালান বাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। নিহত ডা: মহি উদদীনের স্ত্রী জাহেদা বেগম বাদী হয়ে ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহাম্মদ ভুট্রোকে ১ নং আসামী করে মোট ১৩ জনের বিরোদ্বে গত ১৯/৬/২০১৬ ইং তারিখ আদালতে গিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।আদালত মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসাবে রুজু করে আইনগত ব্যবস্তা গ্রহন করতে রামু থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন।রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসাবে রুজু করে(রামু থানার মামলা নং-২২(০৬)১৬ ইং)থানার ওসি তদন্ত শেখ আশরাফুজ্জামকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।তিনি যথারিতি মামলার তদন্ত শুরু ও করেন।এর মধ্যে বাদী জাহেদা বেগমের আবদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পুনরায় সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। সিআইডি পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মোহামম্মদ ওবাইদুল হক সার্বিক তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমান সুরতহাল ময়না তদন্ত ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের রিপোর্ট পর্যালোচনা ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় উল্লেখ করেন , মৃত ডা: মহি উদদীনের এর বিভিন্ন প্রতিপক্ষ থাকায়  আত্মরক্ষার জন্য কোন সন্ত্রাসী হতে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে ডা: মহি উদদীন নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। ঘটনার রাতে উক্ত অস্ত্র নাড়াছাড়া করতে গিয়ে অসাবধানতা বশত: অস্ত্র হতে গুলি বের হয়ে পুরুষাঙ্গে লেগে গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে মৃত্যুবরণ করেছেন।
উক্ত মামলার ৭নং আসামী মাসুক মিয়া জানান ডা: মহি উদদীনের বাবা মরহুম ফয়েজ আহাম্মদের সাথে আমার কোন প্রকার দ্বন্দ্ব ছিল না কিন্ত ক্যাংগারবিল গ্রামের নুরুল আবছার মনুর সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। আমি একটি ঘটনায় দায়ের কৃত মামলায় স্বাক্ষী দিয়ে ছিলাম। সেই কারনে আমাকে শত্রুতামূলক ভাবে মামলায় আসামী করেছে। ঈদগড় এলাকার তরুন আওয়ামীলীগ নেতা ঈদগড় হাসনাকাটা সরকারী প্রা: বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমাজ সেবক দিদারুল ইসলাম কাজল বলেন, উক্ত মামলায় এলাকার নিরীহ অনেক লোক কে আসামী করা হয়েছিল। মামলাটি চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের খবরে আমরা সত্যি আনন্দিত। আমরা সৃস্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
মামলার বাদী জাহেদা বেগমের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করে ও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঈদগড়ের বহুল আলোচিত ডা:মহি উদদীন হত্যা মামলায় সিআইডি কর্তৃক চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের খবরে এলাকায় আনন্দের বন্যা ভয়ে চলছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •