সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজার কলাতলীর লাইট হাউস মাদরাসার পরিচালক (মুহতামিম) মাওলানা মোহাম্মদ আলী জামিনে কারামুক্তি পেয়েছেন।
৭ এপ্রিল কক্সবাজার আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন।
এর আগে ৪ এপ্রিল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মোবাইল চুরির অভিযোগে দায়েরকৃত জিআর মামলা-৩৪০/১৯ তে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত। মাওলানা মুহাম্মদ আলী ছাড়াও একই মামলায় কারাবরণ করেন মাওলানা রুহুল আমিন নামের আরেক শিক্ষক।
মামলাটি দায়ের করেন একই মাদরাসার নির্বাহী পরিচালক কেফায়েত উল্লাহ।
মাওলানা মোহাম্মদ আলী ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় কক্সবাজার কারাগার থেকে বের হলে শুভানুধ্যায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
দুই মাওলানা কারামুক্ত হয়ে লাইট হাউস মাদরাসায় গেলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তার মুক্তির জন্য যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে লাইট হাউস মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা ও কারাগারে প্রেরণের প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা মোহছেন শরীফ জানান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী একজন প্রাজ্ঞ আলেম। তিনি যোগদানের পর থেকে মাদরাসার শিক্ষা ও অবকাঠামোর দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। সাধারণ একটি মোবাইল চুরির মতো অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা খুবই হাস্যকর ও দুঃখজনক। সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও সাজানো মামলায় নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে মাদরাসাকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে-এমন একটি চক্র জড়িত। সুষ্ঠু তদন্ত করলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
একটি সুত্রে জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার কলাতলীর লাইট হাউজ দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম (পরিচালক) মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা আহমদ শফি স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ওই পত্রকে বেআইনি ও নিয়মবহির্ভুত উল্লেখ করে আদালতে অপর মামলা নং-১৯/২০১৯ দায়ের করেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
তাতে আল্লামা আহমদ শফিসহ ৩ জনকে মূল বিবাদী করা হয়। বাকী দুইজন হলেন- মাওলানা হাচ্ছান মোহাম্মদ দিদার ও মাওলানা ইয়াসিন হাবিব। মোকাবিলা বিবাদী করা হয়েছে আরো ১৯ জনকে।
এই মামলার পর থেকে মাওলানা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে শুরু হয় নানামুখি ষড়যন্ত্র-এমনটি দাবী সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে, ২১ জানুয়ারী কক্সবাজার যুগ্ম-জেলা জজ ১ম আদালতে মামলার শুনানী শেষে মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে দায়িত্ব থেকে ‘স্থায়ীভাবে অব্যাহতি’ প্রদান কেন অবৈধ হবেনা, তা ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক ছৈয়দ মোহাম্মদ ফখরুল আবেদীন। সেই সাথে ওই অব্যাহতিপত্রের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। আদালত এই আদেশ সংক্রান্ত একটি নোটিশ মাদ্রাসা দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়া হয়। ৪ এপ্রিল নোটিশটি ভেঙ্গে দেয় মাদ্রাসা বিরোধী একটি চক্র।

কারামুক্ত মাওলানা মোহাম্মদ আলী দাবি করে বলেন, এসব ঘটনার নায়ক মাওলানা ইয়াসিন হাবিব, মাওলানা হাচ্ছান মোহাম্মদ দিদার, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে। মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে আমাকে সাজানো মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। আসল রহস্য কোথায় লুকায়িত -তা এলাকাবাসীর জানা আছে বলেও দাবি করেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •