শাহেদ মিজান, সিবিএন:

গত ৪ এপ্রিল ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। কার্যত ওই দিন থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতি শুরু করেছে শনিবার সকাল থেকে। একই সাথে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে সারাদেশে একযোগে ধর্মঘটের হুমকি দেয়া হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীরা কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকা রয়েছে। কার্যত বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার পর থেকেই সব ধরণের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভর্তি রোগীরা হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হয়। একইভাবে নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা হয়নি। চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা। স্বচ্ছল রোগীরা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারলেও গরীব রোগীরা বিনা চিকিৎসায় ধুকছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে সদর হাসপাতালে বেডে পড়ে রয়েছেন।

একজনের সাথে সংঘটিত ঘটনার জের ধরে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়াকে চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীদের অতি বাড়াবাড়ি; বলছেন সাধারণ মানুষ। স্পর্শকাতর পেশাকে পুঁজি নিজেদের অন্যায্য ‘দাবি’ আদায়কে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ মনে করছেন লোকজন। এই ঘটনায় হামলাকারীদের শাস্তির পাশপাশি কর্মবিরতি দিয়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীদেরও কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন লোকজন।

জানা গেছে, (৪ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার ভুল চিকিৎসায় শহরের সমিতি পাড়ার আনোয়ার হোসেন নামের এক মৎস ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয় বলে দাবি তার স্বজনদের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মৃতের স্বজনেরা দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে। এছাড়া নার্স ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনার জের ধরে সাথে সাথেই চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীরা। এতে বিপাকে পড়ে যায় চিকিৎসাধীন রোগীরা। স্বচ্ছল রোগীরা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হলেও গরীব রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে চরম বেকায়দায় পড়ে। তবুও বাধ্য হয়ে তারা হাসপাতালে বেডে পড়ে তাকে। এছাড়া এরপর থেকে নতুনভাবে রোগী ভর্তি হতে পারেনি। সব মিলে জেলার একমাত্র পূর্ণাঙ্গ এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

এদিকে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি করে শনিবার আনুষ্ঠানিক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীরা। একই সাথে হাসপতালে প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও করে তারা। হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে সারা দেশে ধর্মঘটের হুমকি দেয়া হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনে হাসপাতালের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীলরাও বক্তব্য রাখেন। এই ঘটনার সমাধানের জন্য রাতে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠকে বসেন বলে জানা গেছে। রাত ১০টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। সে পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর খবর জানা যায়নি। বৈঠকে থাকায় হাসপাতালের দায়িত্বশীলসহ সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সচেতন লোকজন বলছেন, একজনের জন্য ঘটনা হয়েছে। তার জন্য পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় কাজ। চিকিৎসার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়কে পুঁজি করে নিজেরদের দাবি আদায়ের হাতিয়া বানানো অত্যন্ত অমানবিক কাজ। এমন একটা অন্যায় কাজ অন্তত চিকিৎসক-নার্সরা করতে পারে না। তারা দোষীদের শাস্তি দাবি করতে পারে কিন্তু জিম্মি করে পুরো হাসপাতালে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়ার অধিকার তাদের নেই।

তারা বলেন, কথায় কথায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রায় সময় এমন নিন্দনীয় কাজ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •