মো: ফারুক/ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের উপকূলীয় বেড়িবাঁধ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়ায় ৩০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকির মাঝে দিনাপাত করছে। এছাড়াও ঝুঁকির মাঝে রয়েছে লবণ শিল্প, মৎস্য প্রজেক্ট ও বসতবাড়ি। গত দুই বছর আগে
৮ কিলোমিটারের এ বেড়িবাঁধটি উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ৫ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করলেও বাকি আড়াই কিলোমিটার কাজ সংস্কারবিহীন অবস্থায় রেখে দিয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে কোটি কোটি টাকার সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পটি।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদুল ইসলাম, মোজাহিদুল ইসলাম, আলী আকবর, জয়নাল আবদীন বলেন, ৮কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত গতিতে শেষ করার তাগাদা দিলেও ঠিকাদার অনিয়ম ও দূর্র্নীতির আশ্রয় নিয়ে খুব ধীরগতিতে কাজটি করছে। কয়েকদিন আগে বেড়িবাঁধ থেকে নির্মাণ সমগ্রী ও স্কেভেটর নিয়ে গেছে। এতে মগনামার লোকজন আবারও বর্ষার পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী বর্ষার আগে কাঁকপাড়া ও শরৎঘোনা পয়েন্টের কাজটি শেষ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এনিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম।   শনিবার বিকেল চারটায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এসময় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাহেদুল
ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু ও আইলার আঘাতে এমনিতে মগনামার মানুষ অসহায় জীবন যাপন করছেন। ক্ষতবিক্ষত রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো ও হাজারো মানুষের ঘর বাড়ি। দূর্যোগের পর সরকার মগনামা ইউনিয়নে অন্তত ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে। এখন ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে বর্ষায় পানি ঢুকলে এসব উন্নয়ন কাজ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে এলাকাবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ আরো বলেন, মগনামা ইউনিয়নে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। পুরো ইউনিয়নে আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। বেড়িবাঁধের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সংস্কার করা হলেও আড়াই কিলোমিটার
বেড়িবাঁধ এখনও ভাঙা রয়ে গেছে। একমাস পরই বর্ষা শুরু হবে। এই ভাঙা বেড়িবাঁধ নিয়ে মগনামাবাসীর মাঝে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। অর্থ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বেড়িবাঁধটি সম্পূর্ন সংস্কার না করায় পার্শ্ববর্তি ইউনিয়ন উজানটিয়ায় প্রভাব পড়বে।

চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ স্থানীয় সাংসদ ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে মগনামাবাসীর দু:খ শোনার আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘প্লিজ যখন বর্ষা আসবে তখন ব্যবস্থা না নিয়ে কিংবা অর্থ সাহায্য না দিয়ে এখনই বেড়িবাঁধ সংস্কারে ব্যবস্থা নেন। তাহলে মগনামাবাসী দুঃখ কষ্ট থেকে বেচে যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •