প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গত ৪ এপ্রিল কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিএমএ কক্সবাজার জেলা শাখা। দ্রুত রাষ্ট্রদ্রোহী দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারাী দেন চিকিৎসক নেতারা।

শনিবার (৬ এপ্রিল) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেইটের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়াও হামলার প্রতিবাদে সারাদেশের চিকিৎসকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে।

বিএমএ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ডা. পু চ নু’র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সুভাষ চন্দ্র সাহা, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বিধান পাল, কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মতিন, ডা. সুনয়ন বড়ুয়া, ডা. সাইফুদ্দিন ফরায়েজী, ডা. রেজাউল করিম মনসুর, বিএমএ’র প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া, সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল মোস্তফা, ইন্টার্ণ চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি হাসিবুল নাসিম সোহান ও সাধারণ সম্পাদক ছোটন চাকমা, নার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি দৌলতুন্নেছা, কর্মচারীদের পক্ষে মো. সেলিম প্রমুখ।

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম মাহফুজুর রহমান। এছাড়াও মানববন্ধন চলাকালীন আন্দোলনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও মহাসচিব এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও মহাসচিব।

বিএমএ নেতা ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল মোস্তফা বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলার যাবতীয় তথ্য থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে এখনো পর্যন্ত একজনের বিরুদ্ধেও আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এধরণের রাষ্ট্রদ্রোহী সন্ত্রাসীরা বারবার শুধু ডাক্তার সমাজ নয়, স্বয়ং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা করার পরও পার পেয়ে যাচ্ছে। একারণে সন্ত্রাসী হামলার পুণরাবৃত্তি হয়। তাই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিএমএ নেতা ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। একারণে কথায় কথায় হামলার সাহস করে দুর্বৃত্তরা। তাই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থায়ীভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবী জানান ।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, রোগিকে একজন চিকিৎসক নিজের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে চিকিৎসা দিতে গিয়ে রক্তাক্ত হবে তা মানা যায় না। কাজের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হলে চিকিৎসকরা সেবা দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাই অতি শিগগিরই দেশের সব হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একই সাথে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিএমএ কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের অনেক গুরুত্ব চিকিৎসার নথিপত্র লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন খোঁজ খবর নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে সন্ত্রাসীদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

বিএমএ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ডা. পু চ নু বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের চিকিৎসা খাত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক ওই সময়ে গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর কাছে চিকিৎসকরা একের পর এক মার খাবে তা হতে পারে না। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবী করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল বলেন, ইতোমধ্যে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় আসামীদের নাম উল্লেখ করে এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মামলা রুজু হয়নি। আমরা আশা করবো প্রশাসন যেন এব্যাপারে আন্তরিক হয়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে এমনিতেই ডাক্তার-নার্স ঘাটতি রয়েছে। তার উপর এই ধরণের নেক্কারজনক ঘটনা। এরপরও সব বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা চালু রাখা হয়েছে। ডাক্তার-নার্সদের সাধারণ ছুটি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •