সিবিএন:

মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর ছালামত উল্লাহর উপর নৃশংস হামলার তিনপর মামলা নিয়েছে পুলিশ। পৌর মেয়র মকছুদ মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৫ এপ্রিল রাতে মামলা রুজু করেন মহেশখালী থানার ওসি। মামলায় মকছুদ মিয়াসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতসহ ১৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। বর্বর হামলার শিকার ছালামত উল্লাহর স্ত্রী- জুলেখা আকতার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। । মহেশখালী থানার মামলা নম্বর ৮/২০১৯। মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাস চন্দ্র ধর মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলা দায়ের হওয়ায় ছালামত উল্লাহর পরিবার ও তার সহকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এবার আসামী দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন তারা।

থানা সূত্র জানা গেছে, সাংবাদিক ও পৌর কাউন্সিলর ছালামত উল্লাহ উপর হামলার ঘটনায় তার স্ত্রী জুলেকা আকতার বাদি হয়ে একটি দায়ের করেন। এজাহারটি আমলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। বাদি দেয়া এজাহার মতো পৌর মেয়র মকছুদ মিয়াকে প্রধান আসামী করা হয়। এছাড়া এজাহার নামী অন্যান্য আসামী হলো- আবদুর রহমান, শামশুর রহমান, মিশাল, মোহাম্মদ রুবেল, ফয়েজুল হক, নুর হোসেন, বোরহান উদ্দিন আজম, আ.ন.ম হাসান ও মোহাম্মদ এনাম। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী দেখানো হয়েছে আরো ৬ জন।

এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, একজন কাউন্সিলর হিসেবে ছালামত উল্লাহ মহেশখালী পৌর মেয়র মকছুদ মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করতেন। এই নিয়ে বিভিন্ন সময় মেয়রের সাথে ছালামত উল্লাহর বাদানুবাদও হয়েছে। শেষ দিকে তা নিয়ে ক্ষেপে যায় মেয়র মকছুদ মিয়া। তারপরও ন্যায়ের পক্ষ থেকে জনগণের অধিকার আদায়ের পক্ষে অটল ছিলেন ছালামত উল্লাহ। এই নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়র মকছুদ মিয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিক ও কাউন্সিলর ছালামত উল্লাহতে তুলে নিয়ে গোরকঘাটা দিঘির পাড়ে বেদম আঘাত করা হয়। কয়েক দফায় হাতুড়ি, লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তার পা’সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংস আঘাত করা হয়। এতে ছালামত উল্লাহ মারাত্মক আহত হন।

ছালামত উল্লাহর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্বর হামলায় মারাত্মক আহত ছালামত উল্লাহকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। বেঁচে থাকলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন চিকিৎসকেরা।

ছালামত উল্লাহর পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, রাজাকার পুত্র নব্য আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র মকছুদ মিয়া ও তার লালিত লোকজন কর্তৃক সাংবাদিক, কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা ছালামত উল্লাহর উপর নির্মম হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছালামত উল্লাহর কান্নার ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়ে সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠে। এই ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষ রাজাকার পুত্র মেয়র মকছুদ মিয়ারসহ অন্যান্য হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। তবে প্রভাবশালী ইশারায় প্রথম দিকে মামলা রুজু করতে গড়িমসি করে থানা পুলিশ। ছালামত উল্লাহ ও তার সহকর্মীরা সাংবাদিকেরা নানাভাবে চেষ্টা করলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। তবে তিন পেরিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও দাবির মুখে মামলা রুজু করে থানা পুলিশ। তবে মামলা রুজু ও ঘটনা চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন আসামীও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা জানান, অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর অবশেষে মামলাটি রুজু করেছে পুলিশ। এতে তাদের মাঝে স্বস্তি এসেছে। এবার দ্রুত আসামীদের গ্রেফাতারের দাবি জানাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ফৌজদারী দন্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩৯৭/৫০৬/১১৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। তবে দায়েকৃত এই মামলায় শনিবার ৫ এপ্রিল বিকেল ৪ টা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •