ডেস্ক নিউজ:

সর্বনাশা মাদক ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশজুড়ে চলছে জোরালো অভিযান। ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিহত হওয়ার খবরও আসছে মাঝেমধ্যেই। কক্সবাজারে শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী একযোগে আত্মসমর্পণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তারপরও বন্ধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা পাচার। বিভিন্ন পথে দেশে ঢুকছে এই মাদক পণ্য। প্রায়ই ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা।

বিজিবি’র সদর দফতরে মাদক, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশে মাদক তৈরি হয় না। দেশে মাদক আসে মিয়ানমার ও ভারত থেকে। ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমাদের অনুরোধে তারা ফেনসিডিলের কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। মিয়ানমারের কাছেও আমরা মাদক বন্ধের জন্য গিয়েছি। তারা মুখে অনেক কথেই বলছে। কিন্তু কোনও কথাই রাখছে না।’

তিনি বলেন, ‘ফেনসিডিল ছিল বড় মাদক, এখন আর সেভাবে আসছে না। এখন ইয়াবা নামক সর্বগ্রাসী মাদক আমাদের দেশে আসছে। সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই। আমরা এটি বন্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ মে র‌্যাবের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্থাটির সদর দফতরে গিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই নির্দেশনার পর মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবক’টি ইউনিট।

র‌্যাব ও পুলিশের দেওয়া হিসাব মতে, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এ পর্যন্ত তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সর্বশেষ এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১০১ জন মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু এরপরেও থেমে নেই ইয়াবার চালান। প্রায় প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধার করছেন।

গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) র‌্যাবের একটি দল ঢাকার সদরঘাট ও উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আট লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এর আগে গত ৩০ মার্চ টেকনাফ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। বিজিবির একটি সূত্র জানায়, কেবল গত মার্চ মাসেই টেকনাফ এলাকা থেকে বিজিবির সদস্যরা প্রায় ১২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশে ৪ হাজার ২৭০টি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০৩ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১৫৪টি মামলা দায়ের করেছেন অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এ সময়ে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ৬৪ হাজার ৯৭৫ পিস। র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে র‌্যাব ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় মাদকের মামলায় প্রায় দুই হাজার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘মাদকের সরবরাহ শূন্য হয়েছে, এটা আমরা কখনও বলিনি। এখনও চালান আসছে। আমরাও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাঝে মধ্যেই মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও ইয়াবা জব্দ করছি। বর্তমানে বেশিরভাগ ইয়াবার চালান নৌরুটসহ বিভিন্ন রুটে আসছে।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ এখন অনেক কমে এসেছে। এছাড়া, র‌্যাব বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরেরও ইয়াবা উদ্ধার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। তবে এখনও কিছু ইয়াবা আসছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।’

নতুন করে আত্মসমর্পণ করতে চায় ব্যবসায়ীরা

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণের পর নতুন করে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা। পুলিশের তালিকায় এখনও পাঁচ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। তারাই আত্মগোপনে থেকে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আগে যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার পর এখন নতুন করে এরাও আত্মসমর্পণের জন্য আগ্রহী হচ্ছে।।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে আমাদের অনুমতি নেওয়া আছে। কোনও ইয়াবা ব্যবসায়ী যদি আত্মসমর্পণ করতে চায়, তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বেশি কঠোরতর অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •