সিবিএন ডেস্ক:
কক্সবাজার শহরে ভরাট হয়ে যাওয়া নালাগুলো সংষ্কার না করলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম দূর্ভোগ সৃষ্টি হবে জনজীবনে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভরাট হয়ে যাওয়ার নালা সংস্কারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণের ব্যবস্থা করে দিতে পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অল্প বৃষ্টিতে’ই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে পর্যটন নগরীর এই শহরে। এতে দূর্ভোগের শেষ থাকছেনা শহরবাসীর। বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় শহরের বাজারঘাটা, নুর পাড়া, পেশকার পাড়া, সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, পর্যটকের সমাগনের প্রাণ কেন্দ্র কলাতলী, এসএম পাড়া, টেক পাড়া, হাঙ্গর পাড়া, জনতা সড়ক, নুনিয়ারছড়া সহ বিভিন্ন এলাকা। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্থরের জনগণের কষ্টের শেষ থাকেনা। শুধু দূর্ভোগ’ই সৃষ্টি হয়না পাশাপাশি মারাত্বকভাবে ক্ষতি হয় শহরের পরিবেশ এবং অর্থনীতির।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের বার্মিজ মার্কেটস্থ এলাকায় ইতিমধ্যে’ই নালা ভরাট হয়ে দূর্ঘন্ধ্যযুক্ত নোংরা পানি রাস্তার উপর জমে আছে। আর এই চিত্র গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে।
এছাড়াও বেশ কিছু জায়গায় পাহাড়ের মাটি আর আবর্জনায় কারণে বৃষ্টির পানি অপসারণের মাধ্যম নালানর্দমাগুলো ভরাট হয়ে আছে অনেক আগে থেকে। এই অবস্থায় থাকলে বৃষ্টি সাথে সাথে’ই পুরো শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
কক্সবাজার শহরের নুর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রায়হান জানান, ‘এমন একটা জায়গায় বাস করি যেখানে বর্ষাকালে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হয়। বাচ্চারা ঠিকমত স্কুলে যেতে পারেনা। বৃষ্টি হলেই চারদিকে জলাবদ্ধতা আর নোংরায় ভয়ে যায়। এর কারণ হল পানি নিষ্কাসনের সু-ব্যবস্থা নেই। আর এই চিত্র দেখে আসছি গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এই সমস্যার জন্য প্রতিবারই এক মেয়র অন্য মেয়রের দোষ দেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়না।
শহরের পেশকার পাড়ার শাহজাহান মিয়া জানান, ইতিমধ্যেই নালা ভরাট হয়ে নোংরা পানি রাস্তায় উঠার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু এই নালা সংষ্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের কোন ধরণের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা। কিছু দিন আগে একটু বৃষ্টি হওয়ায় পুরো এলাকায় পানি জমে গেছে। আর চারদিকে নোংরা আর্বজনায় ভরে গেছে।
বার্মিজ মার্কেট এলাকার সী-কক্স ব্যায়ামাগারের পরিচালক নাহিদ রেজা খাঁন সুজন জানান, বর্ষা’ত দুরের কথা এই শুষ্ক মৌসুমেই নালার পানি রাস্তায় উঠে জমে আছে গত ৬ মাস ধরে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোন খবর নেই। এটি খুবই দূঃখজনক। এভাবে থাকলে বর্ষাকালে কোন অবস্থা হয় আল্লাহ্ জানেন।
এই প্রসঙ্গে কক্সবাজার কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল করিম বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জনগণের সচেতন হতে হবে, নয়ত কখনও এই সমস্যা সমাধান হবেনা। আঙ্গিনার সম্মুখে পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটা কিন্তু নিজেকেই নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নালাগুলো বেশি ভরাট হয়ে যায় আর্বজনা এবং পাহাড়ের মাটির কারণে। বর্ষাকালেই বেশি পাহাড় কাটা হয়। তাই পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যন লে. কর্ণেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফোরকান আহমেদ জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে। যে যার প্রাপ্ত দায়িত্ব ঠিকমত পালন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান হবে। একে অন্যের ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এই শহর মুক্তি পাবে জলাবদ্ধতা থেকে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় নালা সংষ্কার কাজ ধীরগতি হচ্ছে। তবে কাজ চলছে। আর আশা করা যাচ্ছে বর্ষা মৌসুমের আগেই নালা সংষ্কারের কাজ সম্পন্ন হবে এবং মুক্ত হবে জলাবদ্ধতা।
সচেত মহল বলছেন দীর্ঘ দিন ধরে শুধু আশারবানী শুনে আসছি। বাস্তবে কিছু’ই হচ্ছেনা। এবারে অন্তত এই পর্যটন নগরীকে যেন জলাবদ্ধ মুক্ত নগরী হিসেবে উপহার দেওয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •