মাওলানা মোহাম্মদ আলী

সংবাদদাতা:
কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড লাইট হাউস মাদরাসার কর্তৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের রশি টানাটানি শেষ হচ্ছেনা। এক পক্ষ দোষছে অন্য পক্ষকে। দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সমস্যায় মাঝ পথে সুবিধা নিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ। শেষ পর্যন্ত একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পথে যাচ্ছে মনে করছে স্থানীয়রা।
এদিকে, মাদরাসায় ভাঙচুর, মোবাইল চুরির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বহিষ্কৃত মুহতামিম (পরিচালক) মাওলানা মোহাম্মদ আলী (৪৮)কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। ওই মামলায় মো. রুহুল আমিন (৩৫) নামে আরেকজন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা দুইজনই জেলা কারাগারে রয়েছে। ঘটনায় এলাকাবাসী পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিভক্ত হয়ে গেছে শিক্ষকরাও।
৩ এপ্রিল মাদরাসায় অনধিকার প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর, টাকা ও মোবাইল চুরি এবং একজন শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন মাদ্রাসার নির্বাহী পরিচালক মাওলানা মো. কেফায়েত উল্লাহ। যার মামলা নং- জিআর-৩৪০/১৯। এই মামলায় গ্রেফতার দুইজনই এজাহারভুক্ত আসামী। তারা ছাড়া অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরো ৮/১০ জন আসামী।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান জানান, বাদির মামলায় আনিত অভিযোগের ভিক্তিতে মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মো. রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। মাওলানা মোহাম্মদ আলী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি।
মামলার বাদি মাওলানা মো. কেফায়েত উল্লাহ দাবী করেন, মাওলানা মোহাম্মদ আলীর অনিয়মের কারণে আল্লামা শাহ আহমদ শফি হুজুরের নির্দেশে মাদরাসা থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এরপরও তিনি অনধিকার দলবল নিয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করেন। শিক্ষক ও পরিচালকদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। মাদরাসার মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর, নগদ টাকা, মোবাইলসহ মূল্যবান অনেক কিছু চুরি করে নিয়ে যায়। এসব অভিযোগে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসামীদের গ্রেফতার করেছে।
লাইট হাউস মাদরাসার মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা ইয়াছিন হাবীব জানান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী বুধবার (৩ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মী ও কিছু বখাটে শ্রেণীর লোকজন নিয়ে মাদরাসা দখলের উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ করে। দায়িত্বরত শিক্ষকদের শারীরিকভাবে নাজেহাল ও শিক্ষকদের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। কর্তব্যরত শিক্ষকদের মাদরাসা ত্যাগ করার হুমকি প্রদান করে। এমতাবস্থায় শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় ঘটনাটি প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক জানানো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
তবে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবী করেছে আরেকটি পক্ষ। তাদের দাবী, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মাদরাসায় এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।
এ প্রসঙ্গে মাওলানা মোহছেন শরীফ জানান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী একজন প্রাজ্ঞ আলেম। তিনি যোগদানের পর থেকে মাদরাসার শিক্ষা ও অবকাঠামোর দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। সাধারণ একটি মোবাইল চুরির মতো অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা খুবই হাস্যকর ও দুঃখজনক। সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও সাজানো মামলায় নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে মাদরাসাকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে-এমন একটি চক্র জড়িত। সুষ্ঠু তদন্ত করলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
একটি সুত্রে জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার কলাতলীর লাইট হাউজ দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম (পরিচালক) মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা আহমদ শফি স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ওই পত্রকে বেআইনি ও নিয়মবহির্ভুত উল্লেখ করে আদালতে অপর মামলা নং-১৯/২০১৯ দায়ের করেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
তাতে আল্লামা আহমদ শফিসহ ৩ জনকে মূল বিবাদী করা হয়। বাকী দুইজন হলেন- মাওলানা হাচ্ছান মোহাম্মদ দিদার ও মাওলানা ইয়াসিন হাবিব। মোকাবিলা বিবাদী করা হয়েছে আরো ১৯ জনকে।
২১ জানুয়ারী কক্সবাজার যুগ্ম-জেলা জজ ১ম আদালতে মামলার শুনানী শেষে মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে দায়িত্ব থেকে ‘স্থায়ীভাবে অব্যাহতি’ প্রদান কেন অবৈধ হবেনা, তা ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক ছৈয়দ মোহাম্মদ ফখরুল আবেদীন। সেই সাথে ওই অব্যাহতিপত্রের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •