ফারুক আহমদ, উখিয়া:
আন্তজার্তিক দাতা সংস্থা থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের নামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সমূহ অর্থ লুটপাটের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সেবার নামে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন কর্মসূচি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করছে দাতা সংস্থা থেকে।

লোক দেখানো কর্মসূচি বাস্তবায়নের নামে দাতা সংস্থার নিকট হতে সংগৃহিত অর্থ এনজিওগুলো ভাগবাটোয়ারা করে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্তাব্যক্তিরা পকেট ভারী করছে। উখিয়ার পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে নারী মেলার নামে ইউএনএফপিএ সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করেছে ৫টি এনজিও সংস্থা। এনজিওগুলো হচ্ছে মুক্তি কক্সবাজার, গণউন্নয়ন কেন্দ্র, ইপসা ও রিক। তবে এ মেলার দেখভাল দায়িত্ব পালন করেন এনজিও মুক্তি কক্সবাজার।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ দিনব্যাপী নারী মেলা আয়োজন করে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। কোন প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই এ মেলাটি সমাপ্ত হয়। লোক দেখানো এ মেলায় প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি কিংবা গণমাধ্যমকর্মী কেউ কিছুই জানে না। এমনকি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিক সমাজকেও বলা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারী মেলা আয়োজন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মুক্তি কক্সবাজার, গণউন্নয়ন কেন্দ্র, ইপসা ও রিক। উক্ত মেলার অর্থায়ন করেছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনএফপিএ। অভিযোগে প্রকাশ, ইউএনএফপিএ থেকে বিশাল অংকের অর্থ সংগ্রহ করে বাস্তবায়নকারী এনজিও সংস্থাগুলো লোক দেখানো নারী মেলার নামে সিংহভাগ অর্থ অপচয় করেছে। অনেকের মতে এনজিও সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে পকেট ভারী করেন।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মুক্তি কক্সবাজার এর ব্যানারে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে নারী মেলার আয়োজন করা হয় ২৭ মার্চ। দীর্ঘ ২ সপ্তাহ পর কোন প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই দায়সারা গোচরের নারী মেলার আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তাদের মতে দাতা সংস্থা ইউএনএফপিএ’র ফান্ড নয়-ছয় করতে এ মেলার আয়োজন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, মুক্তি কক্সবাজার এর প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, নারী সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতন বৃদ্ধি ও নারীদের মাঝে জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইউএনএফপিএ এর অর্থ নিয়ে রতœাপালং ইউনিয়নে কর্মরত মুক্তি কক্সবাজারসহ ৫টি এনজিও সংস্থা এ মেলার আয়োজন করে। সচেতন নাগরিক সমাজের অভিযোগ, ব্যানার সর্বস্ব নারী মেলার নামে এনজিও সংস্থাগুলোর দাতা সংস্থার নিকট সংগৃহিত অর্থ লুটপাটের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •