আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সহিংসতায় বিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের এবার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক হেলিকপ্টার থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো ওই হামলায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে আরো কমপক্ষে ১৩ জন।

তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এই হামলার ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মেজর জেনারেল তুন তুন নাই বলেছেন, হামলার অভিযোগের ব্যাপারে যথাসময়ে সঠিক তথ্য প্রকাশ করবে সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন প্রদেশে বৈশ্বিক নজরে আসে ২০১৭ সালে; ওই সময় দেশটির সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার পর সেনাবাহিনী রক্তাক্ত অভিযান পরিচালনা করে।

সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের হাত থেকে বাঁচতে ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত এবং রাষ্ট্রহীন এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে।

সম্প্রতি দেশটির সেনাবাহিনী রাখাইনের অপর বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এই গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্যই জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ।

রাখাইনের কিন তুয়াং গ্রামের কমিউনিটি নেতা জাকির আহমেদ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে টেলিফোনে বলেছেন, সামরিক বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আমাদের গ্রামের। বুধবার স্থানীয় বিকেল চারটার দিকে এই হামলা হয়।

আরও পড়ুন : ভারতে গোলাগুলিতে চার বিএসএফ জওয়ান নিহত

তিনি বলেন, ‘লোকজন গ্রামের বাইরে যাওয়াার সাহস পাচ্ছেন না। তারা ভীত-সন্ত্রস্ত্র।’

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় রাখাইনের বুথিডংয়ের অনেক বাড়ি-ঘর ধ্বংস করা হয়। তবে বুধবারের সামরিক হামলায় এই গ্রামের বাসিন্দারাও হতাহত হয়েছেন।

রাখাইনের স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে লড়াইরত সব বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে মিশিয়ে দেয়ার ডাক দিয়েছেন দেশটির নেতারা। কর্তৃপক্ষ বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক দাতা সংস্থাগুলোকে রাখাইনে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না; ফলে ওই এলাকায় আরো বেসামরিক হতাহত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের প্রধান স্টিফেন সাকালিয়ান বলেন, তাদের সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল বুথিডং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন; যেখানে হামলায় আহত ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের জরুরি অস্ত্রপচার প্রয়োজন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •