জসীম উদ্দীনঃ

মা-যে শুধু নিজে না খেয়ে, না পড়ে, সন্তানদের খাওয়ান-পড়ান তা কিন্তু নয়। সন্তান বিপদে পড়লে মুহুর্তে নিজের জীবন উৎসর্গ করে সন্তানকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখে মা। তা আবারো প্রমাণ করলেন জাহেদা খাতুন। মা-সন্তানের ভালোবাসা যে নিঃস্বার্থ -তাই প্রমাণ করলেন তিনি।
কক্সবাজারের টেকনাফে জাহেদা খাতুন নামের এক মা তার দুই কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করার অনুমতি চেয়ে ১ এপ্রিল পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনকারী জাহেদা খাতুন টেকাফের সাবরাং কচুবনিয়া ৩নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুল মাজেদের স্ত্রী। বড় ছেলে ফিরোজ আহমদের দুইটি কিডনি অকার্যকর হয়ে গেছে অনেক দিন আগে। বর্তমানে ঢাকা ইউরোলজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্তত একটি কিডনি অপারেশনের মাধ্যমে সংযোজন করা গেলে বাঁচানো যেতে পারে ফিরোজকে। কার কিডনি খেয়ে দেবে? এমন অবস্থায় এগিয়ে গেল জন্মদাতা মা। নিজের কিডনি দিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর তাগিদে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন জাহেদা খাতুন।
চিকিৎসক আর হাসপাতল কর্তৃপক্ষ পুলিশ সুপারের সুপারিশ ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেলেই ইচ্চুক ব্যাক্তি একটি কিডনি দিতে পারেন।
এরই প্রেক্ষিতে সন্তানকে বাঁচাতে কিডনি দিতে ইচ্ছুক মা আকুল আকুতি জানিয়ে- অনুমতি চেয়ে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বরাবর লিখিত আবেদন দেন।
আবেদন পত্রটি ফেসবুকে ফেসবুকে পোস্ট করে কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিক ওয়াহিদ রুবেল লিখেন, মায়েরা এমনই হয়. “মা শুধুই মা”‘। এর কোন ব্যাখ্যা নেই। যিনি সন্তানের প্রয়োজনে চোখের পলকে নিজের জীবন বিপন্ন করতে পারেন তিনিই মা”। “মা” আমার সবকিছু তোমার জন্য উৎসর্গ করে দিলাম। ভাল থাকুক পৃথিবীর সব মা”।
পুলিশে কর্মরত একসময়ের আলোচিত শের আলী” একইভাবে আবদনপত্রটি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে লিখেছেন, কিছু কিছু সন্তানের মস্তবড় ফ্ল্যাটে মাকে রাখার জায়গা হয় না অথচ মায়ের ছোট্ট পেটের ভিতরেই সন্তানকে রাখার জায়গা হয়ে আসছে সৃষ্টিলগ্ন থেকেই…বৃদ্ধ বয়সে এসেও তাঁর পেটের ভিতরের কিডনী প্রদান করে পেটের সন্তানকে বাঁচাতে চান একজন মা। সকল মাকে সহস্র স্যালুট।
লিখিত আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি আবেদনের বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •