নিজস্ব প্রতিনিধি, পেকুয়া :

পেকুয়ায় বনানী ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে চলছে শিশুশ্রম। এ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা দেশের প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা না করে এ অনিয়ম চালিয়ে আসলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বনানী ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নুরুল আমিন অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক। তিনি স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের ফুসলিয়ে তাদের কোমলমতি শিশুদের এ কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত করেছেন। কম দামে শ্রম পেতে তিনি এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের শেষের দিকে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের আলী চাঁন মাতবর পাড়া এলাকায় স্থাপিত হয় বনানী ফুড নামের এ বেকারি। এর কিছুদিন পরেই এ কারখানার পাশে স্থাপন করা হয় একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট। মুরগির বিষ্ঠা থেকে গ্যাস উৎপাদনের পর খোলামেলা ভাবে রাখা হয় এর উপজাত। যা থেকে দুষিত হচ্ছে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী কারখানা এলাকার পরিবেশ। এর উৎকট গন্ধে কারখানা পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও মানুষ থাকা দায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন স্থানে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, নিয়ম না মেনে বায়োগ্যাস প্লান্টের পাশে কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন অনিয়ম চলে আসলেও এর বিরুদ্ধে দৃশ্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এ কারখানায় তৈরিকৃত খাবারে থাকেনা উৎপাদন বা মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ। তাই এসব খাদ্য খেয়ে মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় ভুগতে পারে মানুষ।

বুধবার দুপুর সরেজমিন দেখা যায়, কারখানা মূল কক্ষে অত্যন্ত অপরিষ্কার ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে কেক পাউরুটি সহ বিভিন্ন খাদ্যপন্য। এসব খাদ্যপণ্য উৎপাদন কাজ করছেন পাঁচজন শিশু শ্রমিক। যারা ড্রেসকোড না মেনে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করছে। এছাড়া কারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য রাখা হয়েছে খোলা স্থানে। যেখানে রয়েছে মাছি পিপড়া সহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব। এছাড়া প্যাকিং করার সময় কোন পণ্যের প্যাকেটে দেয়া হচ্ছে না মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ। বাজার ঘুরেও তাদের পণ্যের গাঁয়ে মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ না থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর মোস্তাক আহমদ বলেন, আমার জানামতে বনানী ফুডের প্রিভিসেস লাইসেন্সের মেয়াদ উর্ত্তীণ। কারখানাটি পরিদর্শন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার অফিস প্রধান মোঃ কামরুল হাসান বলেন, পরিবেশের ক্ষতিসাধন করলে কোন প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দিবে না পরিবেশ অধিদপ্তর। খুব শীঘ্রই পেকুয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সমূহে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবউল করিম বলেন, পেকুয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোতে অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।