সংবাদদাতাঃ
কক্সবাজার পৌরসভা ১২ নং ওয়ার্ডের লাইট হাউজ দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে নিজ দায়িত্ব পালনে মাদরাসায় প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আদালতের রায় উপেক্ষা করে মাদরাসার একটি পক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে দুইটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে মাদরাসার কর্তৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হোটেল মোটেল জোন এলাকায়। খবর পেয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই আরিফের নেতৃত্ব একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পুলিশ উভয়পক্ষকে শান্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। অবশেষে এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুক্ষণের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পুলিশের কৌশলী ভূমিকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়রা জানায়, একমাস ছুটি কাটিয়ে মুহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আলী মঙ্গলবার দুপুরে মাদরাসায় ফিরলে তাকে বাধা প্রদান করা হয়। ঢুকতে দেয়া হয়নি নিজ প্রতিষ্ঠানে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় মাদরাসায় প্রবেশ করেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী। একই ঘটনা বৃহস্পতিবারও ঘাটলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একটি পক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশ মতে মাওলানা মোহাম্মদ আলী মাদরাসার বৈধ মুহতামিম। আরেকটি পক্ষ জানিয়েছে, তাকে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের ‘মৃদুযুদ্ধ’ চলে আসছিল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মাদরাসায় ঢুকতে চাইলে মাওলানা ইয়াছিন হাবীব, কেফায়ত উল্লাহ, মাওলনা হাফিজ উদ্দীন, মৌলভী দিদার, মাওলানা মঞ্জুর ইলাহীসহ আরো কয়েকজন মিলে বাঁধা দিতে দেখা যায়। এসময় দুই পক্ষ বাকবিতণ্ডা জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী পূর্বলাইট হাউজ ফাতেরঘোনা জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোক্তার আহমদ জানান, বিগত দীর্ঘবছর ধরে মাদরাসাটির এত উন্নয়ন কেউ করতে পারেনি। যা অল্প সময়ের মধ্যে মাওলানা মোহাম্মদ আলী করেছে।
তিনি আরো জানান, মাদরাসার সংশ্লিষ্ট কমিটি ও এলাকাবাসী মুহতামিমের পক্ষে। তবু অবৈধভাবে আরেকটা নব্য কমিটি মুহতামিমকে মাদরাসা থেকে তাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে। যাতে করে লুঠপাট করে খাওয়া যায়।
মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্ট মোস্তাক আহমেদ এ ব্যাক্তি অভিযোগ করেন, মাওলানা ইয়াছিন হাবীব গত এক বছর ধরে নানাভাবে মাদরাসা নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছ। এ ব্যাপারে মহামান্য আদালত একটি রায়ও প্রদান করেছে। ওই রায়ে মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে ধার্য তারিখ পর্যন্ত বাহাল রাখার আদেশ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আলী বলেন, কোন কারণ ছাড়াই আমাকে একটিপক্ষ মাদরাসা থেকে বিতাড়িত করতে চাইছে। যদি আমাকে তাড়াতে হয় মাদরাসার সংশ্লিষ্ট যারা আছে, তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তুু মাদরাসার সাথে যুক্ত নয় এমন ব্যাক্তিরা কি কারণে বাধা দেয়? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে অভিযুক্ত মাওলানা ইয়াছিন হাবীব নিজেকে মাদরাসা কমিটির সদস্য দাবি করে বলেন, মুহতামিমের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তাই তাকে বাধা দেয়া হয়েছে। আর তার পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে তারা মাদরাসার ভালো চাচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহম্মদ বাবু বলেন, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মুহতামিম হওয়ার পর থেকে মাদরাসার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ছাত্রদের পড়াশোনার উন্নতি হয়েছে। তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক ও শিক্ষক। এলাকাবাসী সবাই তাকে ভালোবাসে।
মাদরাসার ক্ষতি হয় এমন কিছু না করে সবাইকে মাদ্রাসার উন্নয়নে যে যার মতো করে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন কাউন্সিলর মোরশেদ আহম্মদ বাবু।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •