বিশেষ প্রতিবেদক :

কক্সবাজারবাসী যে কোন কিছুর বিনিময়েই জাতির জনকের স্মৃতিবিজড়িত সমুদ্র সৈকতের ঝাউবিথী রক্ষা করতে বদ্ধ পরিকর। বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের ঝাউবিথী দখলে নেয়ার যে কোন চেষ্টাও প্রতিহত করা হবে। সেই সাথে ঝাউবিথী রক্ষা করে জাতির জনকের কনিষ্ট সন্তান শেখ রাসেলের নামে প্রস্তাবিত শিশু পার্কটিরও বাস্তবায়ন করে ছাড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শেখ রাসেল শিশু পার্ক বাস্তবায়নে যে কোন বাধা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই ঠেকিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসনকে পার্ক বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্টানে শেখ রাসেল শিশু পার্ক স্থাপন না করার জন্য একটি সরকারি বাহিনীর প্রদত্ত চিঠি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বক্তারা অনুষ্টানে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পরিকল্পিতভাবে দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমুদ্র সৈকত কেবল কক্সবাজারের ২৫ লাখ বাসিন্দার সম্পদ নয়। এ সম্পদ দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের । এমনকি বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজারের এই বালুকাময় সৈকত নিয়ে কক্সবাজারবাসী গর্ববোধ করে। সেই সৈকতের তীরে শেখ রাসেল শিশু পার্কটি স্থাপিত হলে কেবল কক্সবাজার এবং বাংলাদেশের শিশু নয়-সারা বিশ্ব থেকে এখানে ভ্রমণে আসা শিশুরাই উপভোগ করবে।

গতকাল কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে সিভিল সোসাইটিজ ফোরাম কক্সবাজার এর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব বলেন। কক্সবাজার পৌরসভার সমস্যা ও সমাধান এবং প্রস্তাবনা বিষয়ক এই মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন-কক্সবাজার জেলাবাসীর জন্য আজ সবচেয়ে বেদনার বিষয় হচ্ছে যত্রতত্র ভুমি অধিগ্রহণ। যার যেখানেই ইচ্ছা সেখানেই কেবল সাইনবোর্ড ঝুলানো হচ্ছে। এমনকি কক্সবাজার সৈকত তীরের জাতির জনকের স্মৃতি বিজড়িত ঝাউবিথীর একাংশ জুড়েই সাইনবোর্ড আর সাইনবোর্ড। পুরো কক্সবাজার জেলায় ভুমি অধিগ্রহণের এক বেদনাবিধূর সময় যেন অতিবাহিত হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং জেলা কালেক্টর মোঃ কামাল হোসেন এ বিষয়ে বলেন-‘ আমার জানা মতে সরকারের চাহিদা মাফিক নানা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এসব অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকাও যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে কক্সবাজার সৈকতের জাতির জনকের স্মৃতি বিজড়িত ঝাউবিথী এলাকায় কোন কোন সংস্থার তরফে এরকম সাইনবোর্ড ঝুলানোর কথা শুনেছি। অথচ এসব এলাকায় আমি কালেক্টর হিসাবে কাউকে সাইনবোর্ড ঝুলানোর মত কোন জমি হস্তান্তরও করা হয়নি।’

গতকালের এ মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা কালেক্টরের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, কোন ভাবেই জেলার একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতাল, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি, বিয়াম স্কুল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সহ শেখ রাসেল শিশু পার্কের মত জনগুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্টান অন্যত্র সরানোর মত উদ্ভুত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়। বক্তারা বলেন, দক্ষিন চট্টগ্রামের একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতালটিতে বর্তমানে দৈনিক দেড় থেকে দু’শ রোগি চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।

এমনকি ডায়াবেটিক হাসপাতালটিতে বর্তমানে প্রায় ২৬ হাজার নিবন্ধিত রোগিও রয়েছে। ১৯৯৪ সাল থেকে এ হাসপাতালটি জনগনের সেবা দিয়ে আসছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই রয়েছে একটি মসজিদ। যদি এখান থেকে হাসপাতালটি সরানো হয় তাহলে একদিকে মুসল্লি এবং অপরদিকে রোগিরা পথে নামবে। তারা বলেন, বিমান বন্দরের পার্শ্বে স্থাপিত বিমান ঘাঁটি শেখ হাসিনার সদর দপ্তর থাকুক কিন্তু পরবর্তী স্থাপনার জন্য খুরুশকুলের লাল পাহাড়ই হচ্ছে একমাত্র উপযুক্ত স্থান হতে পারে। কেননা বিমন ঘাঁটির জন্য যতটুকু জমির প্রয়োজন তা একমাত্র খুরুশকুলেই রয়েছে।

মত বিনিময় সভায় সিভিল সোসাইটিজ ফোরাম কক্সবাজার এর সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীূ সভাপতিত্ব করেন। ফোরাম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কে পালের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী, কক্সবাজার সমাজসেবা বিভাগের উপ পরিচালক প্রীতম চৌধুরী, সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এম,এ বারি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজম মঈনুদ্দিন, উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ট সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর আকতার কামাল আজাদ, মহিলা মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মওলানা জাফরুল্লাহ নুরী, সংবাদকর্মী ওমর ফারুক হিরু ও আবদুল আলীম নোবেল, কলিম উল্লাহ, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার শহরের পানি সমস্যা, যানজট সমস্যা, পানি নিষ্কাশন, ময়লা আবর্জনা সহ জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, এরকম মতবিনিময় সভায় নানা জনের মতামত ব্যক্ত করেই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, যে যাই বলুক কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবাগানে শেখ রাসেল শিশু পার্ক বাস্তবায়ন করা হবে ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •