সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

বাঙালির রক্তে বিরাজ করছে সম্প্রীতির অনন্য বার্তা। বাঙালিরই পূর্বসূরী চন্ডিদাস, লালন ফকির, রবীন্দ্রনাথ আর কাজী নজরুল। যাঁরা সবসময় মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও সুন্দরের কথা বলে গেছেন। তাইতো সবখানেই আজ সম্প্রীতির জয়োগান শুনা যায়। সেই অসাম্প্রদায়িক বার্তা বুকে নিয়েই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে রক্তে মাংস গড়া সকল মানুষকে দেশের কল্যাণে আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে সাম্প্রদায়িক জঙ্গীগোষ্টি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। সে জন্য গঙ্গা¯œানের মধ্যদিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ডায়বেটিক পয়েন্টে অদ্বৈত অচ্যুত মিশন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে মহাবারুণীর গঙ্গা ¯œানে ১৩তম তীর্থ যাত্রীর সেবা কার্যক্রম উপলক্ষ্যে শ্রীশ্রী গুরু পুজা, ভোগ আরতি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষুধ ও প্রসাদ বিতরণসহ হাজারো নর-নারীর মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন তুলসী ধামের মোহন্ত মহারাজ ও ঋষিধাম অধিপতি শ্রীমত দেবদীপান্দ পুরী মহারাজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন, হিন্দু কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের ট্রাষ্টি অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, পৌর কাউন্সিলর রাজবিহারী দাশ, পৌর কাউন্সিলর আকতার কামাল, অদ্বৈত অচ্যুত মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিরন্ময় ধর, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামদাশ ধর, চট্টগ্রাম তুলশী ধাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্থপতি প্রণত মিত্র চৌধুরী, ধর্মীয় আলোচক সোনারাম ধর, সমাজসেবক চন্দ্রনাথ পাল এবং দীপক বণিক প্রমুখ। এর আগে বেলুন ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মেয়র মুজিবুর রহমান।

পরে গীতা সুধাকর শ্রী প্রদর্শন দেবনাথ ও অদ্বৈত অচ্যুত শিল্পী গোষ্টি ভাগবতীয় রাসামৃত গীতা তত্ত্ব ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে আগত তীর্থ যাত্রীদের আনন্দ দান করেন। বিকেলে কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয়ে মেয়র মুজিবুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তুলসী ধামের মোহন্ত মহারাজ ও ঋষিধাম অধিপতি শ্রীমত দেবদীপান্দ পুরী মহারাজ। এসময় আগামীতে বারুণী¯œানসহ সব ধরণের ধর্মীয় আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিতে উভয়ের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়।

উল্লেখ্য, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মধু কৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে গঙ্গা স্নান করলে অশেষ পূণ্য ও ইচ্ছা পূরণ হয়। তাই এই দিনে নিজের ভালো এবং প্রয়াত স্বজনদের আত্মার শান্তির জন্য নির্দিষ্ট করা স্থানে স্নান করতে একত্র হন হাজারো নর-নারী। মূলত: জলদেবতা বরুণের নাম থেকেই এর উৎস। বারুণী স্নান তাই জলের উৎসব।