রহিম আব্দুর রহিম

বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সংস্কার জোরালো ভাবে শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কর্মচারীরা মনে করেছেন। প্রতিদিনই শিক্ষা সংক্রান্ত সু-র্বাতা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে। ২ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক সমকাল পত্রিকায় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ‘বেসরকারি শিক্ষকদের এসিআর চালু হচ্ছে।’শিরোনামের একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সংবাদটির সারসংক্ষেপ বেসরকারি স্কুল ,কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক- কর্মচারীদের (অ্যানুয়াল সিক্রেট রির্পোট) এসিআর তৈরি করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। এসিআরের উপর ভিত্তি করে একজন শিক্ষক বা কর্মচারীর কর্মক্ষেত্রের মূল্যায়ন করা হবে। প্রমোশন, বদলী, জবাবদিহিতা,যোগ্যতাসহ বিভিন্ন ইতি ও নৈতিবাচক ভাগ্য নির্ধারিত হবে শিক্ষক কর্মচারীদের। একই রির্পোটে বলা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকরা ৬ এবং ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাবেন। পদোন্নতির সোপান তৈরি করতে সহযোগী অধ্যাপকদের এমপিও ভুক্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে বদলী করতে একটি নীতিমালা তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়, মাউশিকে দায়িত্ব দিয়েছে। গত ২৭ মার্চ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অতিরিক্ত সচিব, (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো.জাবেদ আহমেদ এর সভাপত্তিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ৩ এপ্রিলের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলীর খসড়া নীতিমালা মাউশিকে তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, অতিরিক্ত সচিব মো. জাবেদ আহমেদ বলেছেন, ‘গত ১২ জুন জারি করা এমপিভূক্তির নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে কিছু সু-নির্দিষ্ট সংশোধনী আনা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি,এসিআরসহ নানা বিষয়ে সংস্কার ও পরিবর্তন আনবে। আর পরিবর্তনের সব কিছুই শিক্ষকদের কথা ভেবেই করা হচ্ছে। চাকরির ১৬ বছরের দু’টি উচ্চতর গ্রেড শিক্ষকরা পাবেন। বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির জন্য নীতিমালা করা হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপকদের এমপিও ভ’ক্ত করার বিষয়টিতে অর্থ-মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। এ জন্য প্রস্তাব তৈরি করে পাঠানো হবে।’ বদলির যে নীতিমালা হচ্ছে তাতে বদলির ক্ষেত্রে প্রার্থীরা নিজ জেলায় ফিরতে অগ্রাধিকার পাবেন, তবে একই প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে তিন বছর না থাকলে কেউ বদলি যোগ্য হবেন না। সংবাদটি বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য মহা আনন্দের বটে। শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের হৃদয়ের রক্তক্ষরণে দেরীতে হলেও রাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভয়শী প্রশংসার দাবীদার। তবে এক্ষেত্রে শক্সকা – আশক্সকাও রয়েছে বিস্তর। বদলী’র বিষয়টি, কার হাতে থাকবে? সরকারের মন্ত্রণালভুক্ত মাউশি,এনটিআরসি না কি স্থানীয় কমিটির হাতে? যদি সরকারের হাতে থাকে তবে কথা নেই,যদি কমিটির হাতে যায় তবেই তো ব্যবসার ষোলকলা। আগে ছিলো নিয়োগ বাণিজ্য এখন চলবে বদলী বাণিজ্য। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের বর্তমানে মেডিক্যেল , আবাসিক এবং উৎসব বোনাসে যে বৈষম্য বিরাজ করছে তাতে সমতা আনা যায় কি না? বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধŸতন সু- নজর দিলে বিষয়টি শিক্ষক বান্ধব সিন্ধান্ত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার ক্ষেত্রে ৭:২ (অনুপাতিক) অর্থ্যাৎ সাত জনের মধ্যে দুই জনকে সহযোগী অধ্যাপক করার যে অযৌক্তিক নিয়ম চালু রয়েছে,তা বিলুপ্ত করে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি মানবিক কারণেই বিবেচনায় আনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এসিআর পদ্ধতি চালু হলে জবাবদিহিতাসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এটা নিশ্চিত। তবে এটাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা যাতে অবৈধ্য ব্যবসা এবং অনৈতিক খবরদারী করতে না পারে সে বিষয়টি অবসানে যৌক্তিক কোন কঠোর কোন নিয়ম সংযুক্ত হওয়ার প্রয়োজন আছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তরা এক মাসের বেতন ভাতাদি, অন্য মাসের মাঝা-মাঝি কিংবা মাসের শেষে উত্তোলন করা সুযোগ পান। যা মাস শেষ হলেই পরবতী মাসের ১ বা ২ তারিখের মধ্যে উত্তোলন করতে পারেন এমন কোন ডিজিটাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও এই সরকারের আমলেই হওয়ার প্রয়োজনীতা রয়েছে সব মিলিয়ে এই সরকারই আমলেই সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করে সকল বির্তকের অবসান ঘটানাটিও এখন সময়ের চাওয়া।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •