রায়হান ফরহাদ সাকিল

লিখতে বসেছি এক অকুতোভয় বীরের কথা, যার নাম নুরুল হক নুর। বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ তাকে চেনে। যার নাম গেঁথে থাকবে প্রতিটি সচেতন ছাত্রের হৃদয়ে।হুম তিনিই সেই ছেলে যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন এটা কি আবার? একটু অপেক্ষা করেন, বলছি, যখন বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে ৫৬%কোটা ছিল বিশেষকরে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, কোটা প্রথার কারনে যখন বাংলার হাজারো মেধাবী পথে পথে ঘুরছিল চাকরি না পেয়ে, যখন অদম্য মেধাবীরাও ফিরে আসে চাকরি খুঁজতে গিয়ে কারন এই জন্যই যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা দিয়ে ভোয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বানিয়ে অদক্ষ অযোগ্য ব্যক্তি সরকারি বড় বড় পদের চাকরিতে,চলে যায় আর এদিকে হাজারো মেধাবী মাথায় হাত দিয়ে,বসে থাকে। ঠিক তখনই এই কোটা প্রথা সংস্কারের দাবি তুলে,বাংলার সাধারন ছাত্র সমাজ। আস্তে আস্তে এই দাবি জোরালো হতে থাকে এবং গঠিত হয় বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। বাংলাদেশের সমস্ত স্তরের শিক্ষার্থী বিশেষকরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এবং নুর হলো এই পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক। এই আন্দোলন দমিয়ে রাখতে ক্ষমতায় থাকা সরকার সাধারন ছাত্রছাত্রীর ওপর লেলিয়ে দেয়,পুলিশ,বাহিনী। সরকার সমর্থিত ছাত্র রাজনৈতিক দল ছাত্রলীগও অস্ত্র, হাতুড়ি, লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। বিশেষকরে এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নুর রাশেদদের ওপর। তাদেরকে গায়েবি মামলা দিয়ে নেওয়া হয় রিমান্ডে। কিন্তু এত নির্যাতনের পরও দমিয়ে রাখতে পারেনি নুরদের। অবশেষে দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় সরকার। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলার সাধারন ছাত্রদের কাছে এক অকুতোভয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে নুরুল হক নুর। ছাত্র সমাজের হৃদয়ে গেথে যায় তার নাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ঢাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দেওয়া দল বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নির্বাচন করে এবং তাদের,প্যানেলে ভিপি পদে প্রার্থী হয় সেই অকুতোভয় ছেলে নুরুল হক নুর। কিন্তু এদিকে নুরদের পরাজিত করার জন্য ছাত্রলীগ মরিয়া হয়ে ওঠে। ভোটের দিন দায়িত্বরত শিক্ষকদের সহায়তায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ শুনে ছুটে যায় নুর সহ সাধারন শিক্ষার্থী এবং একটি হল থেকে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের ব্যলটে সীল মারা কয়েক,বস্তা ব্যালটপেপার উদ্ধার করে। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ নুরের ওপর হামলা চালায়। নুর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া সব দল ভোট বর্জন করে এবং পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে কিন্তু ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলতেছে পুনঃনির্বাচনের কোনো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফলাফল ঘোষণা করে এবং ভোট জালিয়াতির পরেও নুর ছাত্রলীগের প্রার্থীকে দুই হাজার ভোটে পরাজিত করে ভিপি নির্বাচিত হয়। সত্যিই নুর এক অপ্রতিরোধ্য নেতা যাকে শত নির্যাতনের পরেও পরাজিত করতে পারেনি বৈরিশক্তি। নুরকে নিয়ে,আলোচনার,ঝড়,ওঠে সারাদেশে। এক বিশ্লেষক বলেন আমি তার,মাঝে তরুণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া,দেখি।
স্যালুট নুর ভাই আপনি সত্যিই শিখিয়েছেন কিভাবে সব বাধা মোকাবেলা করে সত্যকে জয়ী করতে হয়।


রায়হান ফরহাদ সাকিল ,একাদশ শ্রেণি (ব্যবসায় শিক্ষা),কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •