সংবাদদাতা:
২০১৬ সালের ১৩ মে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে টেকনাফে ৬ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার বেশিরভাব আসামী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে গেছে।
তাদের মধ্যে অন্যতম হলো নুরুজ্জামান ওরফে মাষ্টার জামাল। তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের কোন সদিচ্ছা নেই বলেও মন্তব্য স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ভিকটিমদের।

৩ বছর পার হলেও সাংবাদিক হামলার মামলার অন্যতম আসামী জামাল মাষ্টার গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
মামলার বাদী তৌফিকুল ইসলাম লিপু জানান, শুরু থেকে পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। মাষ্টার জামাল এবং তার সহযোগীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে, অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছেনা। এটি অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয়ার শামিল বলে আমি মনে করি।
২০১৬ সালের ১৩ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি তৌফিকুল ইসলাম লিপু, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সুজা উদ্দিন রুবেল, একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম মিন্টুসহ ৬ সাংবাদিককে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ায় কুপিয়ে আহত করা হয়। এসময় একটি মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, ল্যাপটপ ভাংচুর ও লুট করে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।
এঘটনার পর ভিকটিম তৌফিকুল ইসলাম লিপু বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
পরে টেকনাফে হামলার কয়েকদিন পর কক্সবাজার শহরে পৌরসভার গেইটের সামনে মামলার বাদি লিপু ও আহত রুবেলের উপর পুনরায় হামলা চালানো হয়। এসময় তাদের অপহরণের চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় আরেক ভিকটিম সুজা উদ্দিন রুবেল বাদি হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডের থানায় অরেকটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৬০/৩৮৬। বর্তমানে মামলা দুইটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইয়াবা, মানব পাচারসহ একাধিক মামলা থাকলেও কোন মামলায় এখনও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছেনা, এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। টেকনাফ এলাকার লোকজন জানান, মাসোয়ারার বিনিময়ে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে নাজির পাড়ার অপরাধীরা। বর্তমানে টেকনাফ নাজিরপাড়া এলাকার আরশেদ আলীর ছেলে নুরুজ্জামান ওরফে জামাল মাষ্টার হামালাকারিদের নেতৃত্ব দিয়ে যাবতীয় কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার লোকজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। থানায় ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে তার পরিচিত ও সম্পর্কের কথা বলে মামলা থেকে নিস্পত্তি, ইয়াবার তালিকা থেকে নাম বাদ, প্রতিপক্ষ কাউকে মামলায় ডুকিয়ে দেয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মাদক মামলায় আসামি দিয়ে হয়রানিরও হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় পুরো নাজিরপাড়া তার কাছে জীম্মি হয়ে পড়েছে। তার রয়েছে আলিশান বাড়ি। সেই বাড়িতে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান থেকে পার পেতে বর্তমানে সেই আলিশান বাড়িতে এবতেদায়ী প্রতিষ্ঠান বলে বড় আকারে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে পার পেতে ফাঁদ পেতে শুরু করেছে। তিনি নিজেকে পরিচ্ছন্ন মাষ্টার আখ্যা দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচার করছে। এরকম ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে তার পুত্র সালাহ উদ্দিনের ইয়াবা ঢাকা যাত্রাবাড়ি পুলিশের কাছে আটক হয়। পরে মাষ্টার জামালের পুত্র সালাহ উদ্দিনের নামে মামলা রুজু করে সংশ্লিষ্ট থানায়। এই ইয়াবা মামলা তদন্তের জন্য যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ টেকনাফ থানায় তদন্তের জন্য পাঠালে মোটা অংকের টাকায় মামলা থেকে বাদ যেতে জোর তদবীর চালাচ্ছে। এলাকার লোকজন জানান-আলোচিত নুরুজ্জামান ওরফে মাষ্টার জামাল নামের আগে মাষ্টার ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন চেকপোস্টে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাষ্টার বলে অভিনব কায়দায় ইয়াবা ব্যবসা করছে। মূলত তার বাড়ি হচ্ছে-বরিশাল। টেকনাফ নাজিরপাড়ায় এসে বিয়ে করে নাজিরপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে ন্যাশনাল আইডি কার্ড বানায়। স্থানীয়দের অভিযোগ-তিনি মাষ্টার সাধু সেজে ইয়াবা কারবার চালাচ্ছে। তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে এলাকার লোকজন দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় তিনি এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি দেশ ও যুবসমাজকে চিরতরে ধ্বংস করে দিবে।
স্থানীয় প্রভাবশালী বনে এবং রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় টেকনাফ নাজিরপাড়াসহ থানার আশপাশে প্রকাশ্যে ঘুরছে এবং নিয়মিত ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি থানায় বিভিন্ন তদবীর করতেও যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাষ্টার জামালের বিরুদ্ধে টেকনাফ এবং কক্সবাজার মডেল থানায় একাধিক মামলা এবং ৫টিরও বেশি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •