শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদর :

বহুল প্রতিক্ষিত ৫ম কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু – শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গতকাল ৩১ মার্চ সম্পন্ন হয়েছে। আর এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে মুজিব আদর্শের তিন সৈনিক। কায়সারুল হক জুয়েল কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের আমরন সভাপতি একে এম মোজাম্মেল হকের কনিষ্ঠ সন্তান। এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন জুয়েল । পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান আবদু রশীদ সদরের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম নবাব মিয়ার সন্তান।সে কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক। নারী ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা তাহের ঈদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আবু তাহের চৌধুরীর সহধর্মীনি। তিনি কক্সবাজার মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

জানা যায়, ৩য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০০৯ সালে তৃনমুল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের ভোটে তৎকালীন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহাবুদ্দীন আহমেদ নির্বাচন করেন।তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এডভোকেট সলিমুল্লাহ বাহাদুর।

টানা ২১বছর পর ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ সরকার। ছিন্নভিন্ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী, পরিবেশ পরিস্থিতি তেমন ভাল না থাকায় চেয়ারম্যান পদটি চলে যায় জামাতের ঘরে। সে নির্বাচনে জামাতের অপর ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাহাদুরকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর চৌধুরী হিরু, গতকাল নির্বাচিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা তাহেরকে হারিয়ে ২০০৯ সালে নির্বাচিত হয় মহিলা দল নেত্রী নাসিমা আক্তার বকুল। ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী হিরু মৃত্যু বরন করলে পদটি শূন্য হয়।উপজেলা পরিষদটি চালায় জামাতের দুই নেতা। সে সময়কার আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনায় নেমে পড়ে। শুরু হয় উন্নয়নের মহাযজ্ঞ,পাল্টে যেতে শুরু করে দেশের চিত্র। একদিকে আওয়ামীলীগ সরকার অপর দিকে সদরে বিরোধীদল বিএনপির সংসদ নির্বাচিত, উপজেলা চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় তেমন উন্নয়নের দেখা পায়নি সদর উপজেলাবাসী। উন্নয়ন ছাড়াই ৫ টি বছর চলে গেল ৩য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের।

আবার আসল ২০১৪ সালে ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে তৃনমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ভোটে দলীয় সমর্থন পায় তৎকালীন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আবু তালেব। যদিও বা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আবছার চেয়ারম্যান পদে লড়াই করায় পুনরায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি চলে যায় তৎকালীন কক্সবাজার জেলা জামাতে ইসলামির সেক্রেটারী জিএম রহিম উল্লাহর হাতে। তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন কক্সবাজার জেলা যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির চৌধুরী হিমুকে হারিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় জামাত নেতা শহিদুল ইসলাম ( ভিপি বাহাদুর) জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদা তাহেরকে হারিয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান তৎকালীন বিএনপি নেত্রী হেলেনাজ তাহেরা। পরে সে লোক দেখানো আওয়ামীলীগে যোগ দেন।

২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইমুম সরওয়ার কমল।তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সদরে উন্নয়নের দিকে নজর দেন।৫ বছর ধরে কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদটি চালায় জামাত বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা। সাড়ে চার বছরের মাথায় মৃত্যু বরন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহ। ফলে আবারও উন্নয়ন বঞ্চিত হয় সদর উপজেলাবাসী। কাগজে কলমে থাকা প্রকল্প গুলো বন্টন করে শেষ হয় ৪র্থ উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম।

শুরু হয় ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল। এবার দলীয়ভাবে প্রার্থী দেওয়ায় একাধিক জনের ভীড়ে দলীয় টিকেট পান জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল। এ নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আবছার এবং হেভিওয়েট প্রার্থী সেলিম আকবরকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জুয়েল। ভাইস চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থীকে পিছনে পেলে নির্বাচিত হন তরুন আওয়ামীলীগ নেতা রশিদ মিয়া।নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় দুইবারে হেরে যাওয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদা তাহের। টানা ১০ বছর দুই বার জামাত বিএনপির ঘরে থাকা জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন তো দূরের কথা এলাকায় শুদ্ধ আসেনি বলে জানান সচেতন নাগরিকরা।

এলাকার সর্ব শ্রেণীর পেশার মানুষের মতে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতরা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে নেওয়া উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলো সঠিক সময়ে পৌঁছে দিবে এমনতাই আশা ভোটারদের।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘ বছর জামাত বিএনপির ঘাড়ে বন্দী থাকা পরিষদটি মুক্তি পাবে,কংলক মুক্ত হবে। অপরদিকে বিএনপি জামাতের নেতাকর্মীরা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ না থাকায় উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি।দলীয়ভাবে মনোনয়ন এবং নির্দেশ থাকলে যে কেউ নির্বাচন করত।এবং আবারও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যা যা করনীয় করে যেত ২০ দলীয় ঐক্যজোট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •