আলমগীর মানিক,রাঙামাটি :

রাঙামাটি শহরে বখাটে স্কুল শিক্ষক বিপু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি থেকে রেহাই পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগী একটি পরিবার। রোববার দুপুরে রাঙামাটি রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উক্ত পরিবারের গৃহিনী সাজিয়া পারভিন জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকায় ডাক্তার দেখাতে গিয়ে স্বামী এমাদুল ইসলামসহ তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই বেদড়ভাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় রাঙামাটি শহরের পুরান পাড়ার বাসিন্দা ফারুক আহাম্মেদ তালুকদার বিপু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।

এই ঘটনায় আহত হয়ে তারা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বসতঘরে আবারো হামলা চালায় বিপু ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এসময় কোতয়ালী থানা পুলিশের মাধ্যমে ফারুক তালুকদার বিপুকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে সেই মামলায় বিপুকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত আমাদের অবস্থা দেখে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এই ঘটনার পর হতেই বিপুর পিতা ও ক্যাডার বাহিনীর অব্যাহত হুমকিতে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান এমাদুল দম্পতি।

সংবাদ সম্মেলনে মারধরের শিকার উক্ত দম্পতি জানান, ফারুক আহাম্মেদ তালুকদার বিপু’র পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা এটাকে পূঁিজ করে সে বিগত ১০ বছর যাবৎ তার কর্মস্থল রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে ছয়নালছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদিনের জন্যেও যায়নি, যার জলন্ত প্রমান উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিজেই। সে রাঙামাটিতে থেকে অসামাজিক ব্যবসা, ফার্নিচারের পারমিট ব্যবসাসহ মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কোতয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত শতাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উক্ত দম্পতি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এমাদুল দম্পতি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার হয়ে, শিক্ষকতা পেশাকে বর্গা দিয়ে রাঙামাটি শহরে ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছে সন্ত্রাসী বিপু ও তার বাহিনীর সদস্যরা। পিতা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সুবাধে বিপু, অন্যের বউকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে করে, প্রথম স্ত্রীকে তালাক নাদিয়ে আবারো দ্বিতীয় বিয়ে করা, বিভিন্ন মানুষের ছবি ও আইডি কার্ড সংগ্রহ করে সেগুলোর মাধ্যমে অবৈধ ফার্নিচারের পারমিটের ব্যবসা, দীর্ঘ অন্তত ১০ বছর যাবৎ নিজ কর্মস্থল বাঘাইছড়ির ছয়নালছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাগিয়ে বর্গা শিক্ষক দিয়ে পেশা চালানো, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ছুরি দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জোর করে বেতন উত্তোলন, শহরের আবাসিক হোটেলগুলোকে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনাসহ মাদকের ব্যবসা করা, নিজ রক্তের ছোট ভাইকে ভাড়াটে সন্ত্রাসীর মাধ্যমে হত্যার চেষ্ঠাসহ এলাকাবাসীকে ছুরি মেরে হত্যার চেষ্ঠার মতো অপরাধ করেও মুক্তিযোদ্ধা পিতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এতোসব অপকর্ম করেও এই ফারুক আহাম্মেদ তালুকদার বিপু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বারংবার আইনের হাত থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে এই বিপুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা জানিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে এমাদুল ও তার স্ত্রী সাজিয়া বেগম জানান, বিপুর সাঙ্গ-পাঙ্গরা ইতিমধ্যেই তাদেরকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের ছোট সন্তানকে বিদ্যালয় থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেণ তারা। এই সন্ত্রাসীকে জামিন নাদিয়ে তার বিরদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার এমাদুল ও তার স্ত্রী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •