জসীম উদ্দীনঃ

পর্যটন নগরী কক্সবাজার যেন এখন মশার শহর। এ শহরে ভ্রমণে আসলে বা বসবাস করলেই যেন মশার কামড় সহ্য করা বাধ্যতামূলক। নালায় জমে থাকা ময়লা-সীমাহীন আবর্জনার বিশ্রী দুর্গন্ধ, মাছির উত্পাত ও মশার কামড়ে জন-জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এ শহরে।
আর এ মশার কারনে পর্যটন নগরীতে বেড়াতে এসে ভেঙ্গে যাচ্ছে হেলাল ও তামান্না ( ছদ্মনাম) এক পর্যটক জুটির পাকাপোক্ত বিয়ে। ৭বছর চুটিয়েপ্রেম করার পর পারিবারিক ভাবে ঠিক হয় তাদের বিয়ে।
সোমবার সন্ধ্যায় দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সীগাল পয়েন্টে হেলাল ও তামান্না চেয়ারে বসে সাগরের ঢেউ উপভোগ করছিলেন।একসময় প্রেমিকা তামান্না মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে হোটেলে চলে যেতে চাইলে, প্রেমিক হেলাল একটু পরে যাব বলে তাতে বাঁধা সাধেন।
খানিকক্ষণ নীরব থাকার পর আবারো প্রেমিকা তামান্না হোটেলে চলে যেতে চাইলে প্রেমিক হেলাল তাতে বাঁধা দিলে সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিকের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেন তামান্না। প্রেমিক হেলাল প্রেমিকা তুই একটা বেশ্যা বলে চিৎকার করেন। এর পর দুজনের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি।
এসময় আশেপাশের পর্যটকরা এগিয়ে গিয়ে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করলে তারা পর্যটকদের দুর্ব্যবহার করে। শেষ পর্যন্ত এ জুটি শত শত পর্যটকদের উপস্থিতি একে অপরকে বিয়ে না করার শপথ করে সৈকত থেকে চলে যান।
শুরু থেকে তাদের ঝগড়া শুনছিলেন
চেয়ারে কর্মরত বোরহান। তিনি জানান, বেশ কয়েক বার মেয়েটি মশা কামড়াচ্ছে। চলো হোটলে চলে যাই। এমনটি অনুরোধ করতে শুনা গেছে। তবে ছেলেটি কিছুতেই তার কথা শুনছিল না। এক সময় এতে রাগান্বিত হয়ে মেয়েটি প্রেমিকের গালে থাপ্পড় দেন বলেও জানান বোরহান।
ঝগড়া থামাতে গিয়ে দুর্ব্যবহার শিকার মুহিব, হেলানা নামের এক দম্পতী জানান, তারা তাদের পরিচিত দুজনের বাড়ি রাজশাহী হলেও বর্তমানে থাকেন মিরপুর ৩ -এ। ৭বছর ধরে চুটিয়েপ্রেম করার পর অনেক বাঁধা পেরিয়ে গত এক সপ্তাহ আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ে ঠিক হবার পরেই মূলতঃ এ জুটি এক প্রকার হানিমুনে আসেন বলে জানান এ দম্পতি।
দুর্ব্যবহার শিকার মিলা নামের আরেক নারী পর্যটক বলেন, এদের মত মানুষদের জন্য আমাদের বাঙালির এত দুরাবস্থা! পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মত একটি জায়গায় হাজারো মানুষের সামনে তারা এ তামাশা না দেখালেও পারতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •