ইকবাল বদরী : একজন বিরল সমাজ সেবক

– এইচ. এম. ই. রিমন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বিগত দু’বারে নির্বাচিত সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম এ,কে,এম ইকবাল বদরী ছিলেন একজন প্রকৃত সমাজসেবক এবং সততার সর্বোচ্চ প্রতীক। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও সমাজ সংস্কারে উনি ছিলেন রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সকল সাধারণ মানুষের জন্য একজন দরদী ব্যক্তিত্ব। তার দক্ষ পরিচালনার জন্য ২০১৭ সালে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতির পুরস্কার লাভ করে এবং ২০১৮ সালে ইকবাল বদরী জেলার শ্রেষ্ঠ সমবায়ী ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন।

সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনের স্থলে স্থাপিত করেন এক দৃষ্টিনন্দন ভবন যা বাংলাদেশের যে কোন বড় ক্লাব কিংবা সরকারি ভবনের চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। চকরিয়া, মহেশখালী আর কুতুবদিয়া উপকূলীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বদরখালী বাজারের সংস্কার করেছেন আধুনিকতার ছোঁয়ায়। বদরখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ওযুখানা এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করেছেন, ৪২ হাজার বদরখালীবাসীর একত্রে ঈদের জামাত পড়ার জন্য বদরখালী মাঠে স্থায়ী ঈদগাহ মিম্বর নির্মাণ করেছেন।

ইকবাল বদরী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন সাধারণ মানুষের ভোটে। উনি ছিলেন একজন সুবক্তা আর সাধারণ মানুষের কন্ঠস্বর। নির্বাচনের সময় চারিদিকে যখন অর্থের ছড়াছড়ি ছিল, তখন তাঁর নির্বাচনী খরচের ফান্ড ছিল সাধারণ মানুষের ভালবাসায় সংগৃহীত নগন্য অর্থ। টাকার ছড়াছড়ির মাঝেও সাধারণ মানুষ রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সবসময় তাকে নির্বাচিত করেছেন। বর্তমান সময়ে এভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া সত্যিই অবাক করার মত একটি ঘটনা ছিল। মরহুম ইকবাল বদরী জনগনের আমানত সবসময় রক্ষার চেষ্টা করেছেন, সরকারি অর্থের বিন্দু পরিমাণ কখনও ব্যক্তিগত খরচে ব্যয় করেছেন বলে কেউ বলেনি , এমনকি ইউপি অফিসের সামনে নিজের হাতে তৈরি করা কলা বাগানের একটি কলা পর্যন্ত কখনও খেয়ে দেখেননি বলে স্বীকার করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান।
তার সময়ে বৃহত্তর বদরখালী বাজারের ছোট-বড় সবধরনের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত ছিল, গ্রামের মা-বোনদের কোন ধরনের অত্যাচারের সাহস দুষ্কৃতকারীরা পায়নি।

বিএনপি সরকারের সময় দলের একজন প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্বেও এলাকায় কোন প্রভাব কাটাননি, দূর্নীতির সাথে যুক্ত হননি যার কারনে ১/১১ এর সময় দেশের প্রায় সব নেতাই যখন বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী ছিলেন কিংবা বিভিন্ন ধরণের দূর্নীতির মামলা খেয়েছেন, সেসময় ইকবাল বদরীর বিরুদ্ধে কোন ধরনের মামলা তো হয়নি বরং যৌথবাহিনি তাকে সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়েছিলেন, এবং তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সমস্যা সমাধানের।

আবার যখন উনি সমিতির সম্পাদক পদে প্রার্থী হন তখনও সেই বিভিন্ন প্রার্থীর টাকার ঝনঝনানির কাছে বদরী ছিলেন একজন নিস্প্রভ প্রার্থী, রাজনৈতিকভাবেও ছিলনে একজন সময়ের প্রতিকূল প্রার্থী। সাধারণ ভোটাররা স্বজনপ্রীতি, এলাকাপ্রীতি আর রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে তার প্রতি আস্থা রাখে। নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব উনি সততা আর দক্ষতার সাথে পালন করে সভ্য আর সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসায় সিক্ত হন।

ঐতিহ্যবাহী বদরখালী সমিতি অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বিশাল, সমিতি পরিচালনার দায়িত্বে ইতোপূর্বে যারা ছিলেন তাদের বেশিরভাগই মানুষের আমানত রক্ষা করতে পারেননি, নিজের পকেট ভারি করা আর সমিতির ফান্ড শূন্য করার জন্য সবসময় ব্যস্ত ছিলেন। ইকবাল বদরী যখন সম্পাদক নির্বাচিত হন তখন সমিতির আয় বেড়ে যায় প্রায় তিনগুন, উদাহরণস্বরুপ যে চিংড়ি ঘের একবছর আগেও বিভিন্ন কালো হাতের কারণে ৩০ লাখ টাকায় লিজ হত, বদরীর ১ম বছরেই একই ঘের লিজ হয় ৯০ লাখ টাকায়। বর্ধিত আয়ের অর্থ উনি সমিতি আর সভ্যদের কল্যাণে ব্যয় করা শুরু করেন।

মরহুম এ, কে, এম ইকবাল বদরীর পারিবারিক পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, সৎ নেতৃত্ব আর সমাজ সচেতনতা সবসময় মানুষের মন জয় করেছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনও বিপক্ষ লোকদেরকে কোন ধরণের হয়রানি কিংবা হিংসা মনোভাব দেখাননি। সমিতির ইতোপূর্বের নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের মামলা দেয়া কিংবা কুৎসা রটানোর কাজে কখনও নিজেকে জড়াননি। পক্ষে-বিপক্ষের সবধরনের মানুষকে উনি মন থেকে ভালবেসেছেন।

মরহুম ইকবাল বদরী মৃত্যুর পূর্বে নিজের বাড়িতে বৃদ্ধা মাকে গোসল করান, তারপর হৃৎযন্ত্রের স্পন্দন হয়ে সবাইকে অবাক করে না ফেরার দেশে চলে যান। মৃত্যুর পর মরহুমের বাড়িতে এলাকার শোকার্ত নারী-পুরুষের কান্নার রোলে পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। ইকবাল বদরীর জানাজায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো মানুষ, বদরখালী স্কুলের বিশাল মাঠ মানুষের কাতারে কাতারে, চারিদিকে কিনারায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ইকবাল বদরীর মত একজন সমাজসেবক আর গনতান্ত্রিক নেতা বর্তমান সময়ে সমাজে বিরল।

লেখক- এইচ. এম. ই. রিমন, এয়ারক্রাফট ইন্জিনিয়ার।

সর্বশেষ সংবাদ

মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গুর ‘কামড়’

স্ত্রীকে ‘উত্ত্যক্তের’ প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

মিয়ানমারের বিচারে আরও একধাপ এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

ইয়াবা ব্যবসার নিরাপদ স্থান রোহিঙ্গা ক্যাম্প!

অল্প বৃষ্টিতেই দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন উপায় 

ফিউচার লাইফের আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত

দারুল আরক্বমে সংবর্ধনা ও নবীন বরণ

একবার ভেবে দেখবেন কী !

কনস্টেবল স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৩৮৬ জনের বিপরীতে ৭৫৩ জন উত্তীর্ণ : বৃহস্পতিবার লিখিত পরীক্ষা

একটি সাদা কাফনের সফর নামা – (৭ম পর্ব)

হোপ ফাউন্ডেশনের ফিস্টুলা সেন্টারের অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করলো কউক

অপরাধ দমনে শ্রেষ্ট অফিসার চকরিয়া থানার এএসআই আকবর মিয়া

জেলা মৎস্যজীবি শ্রমিকলীগের কমিটি গঠন

চকরিয়ায় আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত

সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া আরেকটি ছবি

মাদক ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা, ঘরে ঘরে হুশিয়ারি

‘ঈদগাহ উপজেলা’ গঠন প্রক্রিয়া শুরু

মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : ডিসি কামাল

হ্নীলায় রাশেদ, ফাঁসিয়াখালীতে গিয়াস ও বড়ঘোপে কালাম মেম্বার