আবদুল মজিদ,চকরিয়া:
ততৃীয় ধাপে রোববার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়েছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পযর্ন্ত চলে ভোট গ্রহণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে মগনামা, টৈটং, পূর্বউজানটিয়া, শিলখালী, মেহেরনামাসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে চাইলেও প্রশাসনের কঠোরতায় মুহুর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন আইনশৃঙ্কলা বাহিনী। এদিকে রাত ১০টায় বেসরকারীভাবে বিজয়ীসহ প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের ফলাফল ঘোষণা করেন পেকুয়া উপজেলা সহকারী রিটানিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম। নির্বাচনে বেসরকারীভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে মোট ৪০টি ভোট কেন্দ্রে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৭০৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পেয়েছেন ১২৬৬৯ ভোট এবং অপর বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন আনারস প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৮৭১৬ ভোট। বিজয়ী প্রার্থীর সাথে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নৌকা প্রতিকের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে ৪৪০৮ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন চশমা প্রতীক নিয়ে মো: আজিজুল হক (প্রাপ্ত ভোট ১৬,৭০৬)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মেহেদী হাসান বই প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৮৫৫২ ভোট, মেহের আলী তালা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৫৩১৪ ভোট, মো: নাছির উদ্দিন উড়োজাহাজ প্রতিক নিয়েছেন ২১০৬ ভোট এবং সাজ্জাদুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ১৯২৯ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ফুটবল প্রতিক নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য নারী নেত্রী উম্মে কুলছুম মিনু (প্রাপ্ত ভোট ১৮,৮২৬)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী হাছিনা বেগম প্রজাপতি প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৯৪৪২ ভোট ও নাজনীন ফরজানা হাঁস প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৯৪২৭ ভোট।

এদিকে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্টু,নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়। নির্বাচনে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সাতজন ৭জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ সদস্য করে একশত সদস্য নিয়ে ৫ প্লাটুন বিজিবি ও পুলিশের ১৬৮ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ৪০টি ভোট কেন্দ্রের ২৫০টি বুথে ৪ শতাধিক আনসার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের দুই সদস্য ও আানসারের টিম কাজ করেন। এছাড়া ৯ সদস্য করে তিনটি পুলিশের টিম স্ট্রাইকিং ও ১০টি মোবাইল টিম মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। পেকুয়া সদর ইউনিয়ন, রাজাখালী, টেইটং, বারবাকিয়া, শীলখালী, উজানটিয়া ও মগনামাসহ সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পেকুয়া উপজেলার মোটর ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ২৮৯ জন। তন্মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩৯৪১৯ জন ভোটার। তন্মধ্যে বৈধ ভোটার ৩৮৪৬২জন এবং বাজেয়াপ্ত ভোটার ৯৫৭জন।

পেকুয়া উপজেলা সহকারী রিটানিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ ভোট আদায় সবব্যবস্থাই তারা (নির্বাচন কমিশন ও উপজেলা প্রশাসন) করেছেন। উপজেলার সবকটি কেন্দ্রেকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁিকপুর্ণ) ভেবেই প্রস্তুতি রাখা ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •