ড. হাসমত আলী 

আমরা এখন বুড়ো হয়েছি। একসময় তরুণ ছিলাম। তখন ভাবতামঃ এখন এঞ্জয় করার সময়। আনন্দ করার সময়। ঘুরে বেড়ানোর সময়। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাত করে বাসায় ফেরার সময়। মা-বাবা যখন বলতেনঃ আর ঘুমাইওনা। উঠো। নামাজে যাও। একটু কুরআন পড়। একটা হাদীস পড়। খারাপ সংগে যেওনা। সৎ হয়ে চল।
আমরা মাথা ঘামাইনি। শুনিনি। অথচ যদি সে যৌবনটাকে ঠিকমতো চালাতে পারতাম, মহান প্রভুর দেয়া নিয়মে চালাতে পারতাম, করণীয় বর্জনীয় মানতে পারতাম তবে একটা বিষয় এখনই নিশ্চয়তা পেয়ে যেতাম। সেটা কি জানো?
বিশ্বনবী মু্হাম্মদুর রাসুলুল্লাহ বলেছেনঃ
কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে ৭ ধরণের ব্যক্তিকে আরশের নীচে ছায়া দেয়া হবে যখন আর কোন ছায়া থাকবেনা। তাদের এক প্রকার হলো সেই তরুণ যারা তরুণ বয়সেই আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ছিলো। (আল হাদিস)।

ইবাদতে মগ্ন হওয়া মানে শুধু নামাজ রোজা নয়। ইসলামের সকল দিক যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই যৌবন পার করাকে বুঝায়।
এটি কঠিন নয়। প্রয়োজন হচ্ছে চেষ্টা। যেকেউ চেষ্টা করলে সফল হবেই। বুড়ো বয়সে সব করার নিয়তে যৌবনের অবহেলা করেই কাটিয়েছি।
তরুণেরা, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে যদি একটু আন্তরিক হও তবে নিশ্চিত, ছায়া তুমি পাবেই। আর যে ছায়া নিশ্চিত করবে, সে তো জান্নাতও নিশ্চিত করবে।
আমরা না হয় প্রবীণ হয়ে গেলাম। হেলায় কাটালাম যৌবন। তোমরা চাইলে পারো যৌবনটাকে হীরা-মুক্তায় গড়ে সাজাতে। দোয়া ও শুভ কামনাঃ হাশরের মাঠ হোক ছায়াঘেরা আরামদায়ক।
আল্লাহ কবুল করুন।

ড. হাসমত আলী, অধ্যাপক- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •