জাপান থেকে বলছি:

একজন চেয়ারম্যান এইচ, কে, আনোয়ার এবং কাছ থেকে যা দেখা:

সিরাজুল কাদের

“মামা শেষ যাত্রাতে দেখতে পাইনি বলে কলমের আঁচড়ে আপনাকে খুঁজছি”……!!

আন্তর্জাতিক বলয় থেকে শুরু করে মানুষের চরাচরের প্রথম পরিচয় তার মাতৃতূল্য জন্মভূমি এরপর পরিচয়ের ক্রমাগত ধাপে কখনো বিভাগ, কখনো জেলা, কখনো উপজেলা, কখনো ইউনিয়ন, কখনো সমাজ এবং কখনো পরিবার। এই পরিচিতির পরিক্রমায় সবচেয়ে বেশি যে দিকটি অধিক বিবেচিত তা হল সামাজিক পরিচয় কেননা এই সমাজে বসবাসকারী স্বজনরাই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা এবং বিন্দু বিন্দু জলের ন্যায় মহাদেশ ও অতল সাগর তৈরীতে মূখ্য ভূমিকা রাখে। দেশ মাতৃকার উন্নয়নের প্রথম মাপকাঠি কিন্তু এই সমাজের কর্মপাগল মানুষের কর্মকান্ড থেকে নি:সরিত হয়। সামাজিক বিচারে এখানে অনেকগুলো মৌলিক বিষয় পূর্বাপর সময় থেকে শুরু করে বংশপরম্পরায় এখনও বিদ্যমান তৎমধ্যে: জীবনাচরণ, জীবনপদ্ধতি, সংস্কৃতি, সামাজিক বিশ্বাস, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক শৃংখলা ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো সচরাচর আমরা মোটা দাগে হিসেব করার মত অবকাশ পায়না কিন্ত চেতন এবং অবচেতনভাবে এই উল্লেখ্য বিষয়গুলো আমাদের সমাজ জীবনে আবর্তিত হয়।
এই ক্ষেত্রে সমাজকে যদি আমরা পাঠশালা হিসেবে ধরে নিই তাহলে এর শিক্ষাক্রমে উল্লেখ্য বিষয়গুলো পঠিত হয়, সংগত কারনে কালের আবর্তনে ঘূর্ণিপাকে এই সমাজ পাঠশালায় অনেক কৃতি শিক্ষার্থীর আবির্ভাব ঘটেছে যাদের সিঁড়ি বেয়ে আজ আমরা একটি পরিবর্তিত সভ্য সমাজে বসবাস করছি! অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সবকিছুকেই জয় করে সভ্যতা তার সর্বোচ্চ অবস্থানে আসীন।
হ্যাঁ বলছিলাম সমাজ পাঠশালার কথা,এখন যখন আমি আমার বেড়ে উঠা সমাজের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি আমার শৈশবকাল থেকে একাল পর্য্যন্ত আমাদের সামাজিক পাঠশালায় যে ক’জন কৃতিত্বের সাথে আমাদের সামাজিক অবকাঠামোতে সম্প্রীতি, মূল্যবোধ, সুস্থ সংস্কৃতি এবং সামাজিক শৃংখলা সহ ইত্যাদি বিষয়ে সরব উপস্থিতির জানান দিয়ে গিয়ে সমাজের প্রকৃষ্ট উদাহারণে পরিণত হয়েছে তৎমধ্যে আমার শ্রদ্ধাভাজন মামা এইচ, কে আনোয়ার এক প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। জেলা ব্যাপী সুপরিচিত, সদা সদালাপী, সাদা মনের মানুষ, ধার্মিক, আপামর জনসাধারণের প্রতিকূল পরিবেশে সম্মূখপানে অগ্রসরমান এক ব্যক্তিত্ত্ব, সমাজ সংস্কারের যে কোন কর্মকান্ডে প্রথম সারিতে তার স্বক্রিয় ভূমিকা জাজ্বল্যমান সর্বোপরি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত নৈতিকতার এক অনন্য পূজারী ছিলেন! আমার সম্পর্কে মামা হলেও উনার সাথে আমার সমাজ সেবামুলক কর্মকান্ডে ইন্টার অ্যাকশন হয় ঢের বেশী। ২০০৮ সালের ঘটনা যখন আমি আন্তর্জাতিক সেচ্ছাসেবী সংস্থা Muslim Aid-UK টেকনাফের Livelihood Support Project for Rohingya Refugees and Host Community এর অধীনে Project officer হিসেবে কর্মরত ছিলাম আর ঐ সময়ও উনি হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আমাদের প্রজেক্ট লোকেশন যেহেতু হ্নীলা ইউনিয়নের আওতাধীন ছিল সংগত কারনে প্রজেক্ট ইমপ্লিমন্টেশনে লোকাল কি এলিট হিসেবে উনার পরামর্শ সহ বিবিধ বিষয়ে নিয়ে আলাপ আলোচনা হত: কখনো আমাদের কান্ট্রি ডিরেক্টর এর সাথে কখনো হেড অফ ইমার্জেন্সীর সাথে প্রায় আমার যাওয়া লাগত।এখানে একটি ইন্টেরেস্টিং ঘটনা না বলে পারছিনা; আমাদের কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন ইংল্যান্ডের কনভার্টেড মুসলিম ফাদলুল্লাহ উইলমট,যখন তিনি প্রথম প্রজেক্ট ভিজিটে আসলেন তখন তার Itinerarie তে মামা এইচ, কে আনোয়ারের সাথে একটি মিটিং ছিল, যথারীতি মিটিং হল আর আমি দোভাষীর দায়িত্ব পালন করলাম। মামাতো সরওয়ার ভাইকে দিয়ে বনেদি নাস্তা-পানির ব্যবস্থা করলেন। বলতে গেলে জনকল্যাণমুখী সফল মিটিং হলো। কান্ট্রি ডিরেক্টরতো বড়ই উচ্ছসিত; মামার স্তুতি গাইতে লাগল। এরপর থেকে কান্ট্রি ডিরেক্টর টেকনাফ ভিজিট করার আগেই আমাকে বলত, Brother in my itineraries, The meeting with Chairman should be included. টেকনাফের নাম ধরলে আমাকে জিজ্ঞেস করত, What about Chairman Anwar?জানিনা কোন মেহিনী শক্তিতে এই বিদেশী ভদ্রলোক মামার প্রতি আকৃষ্ট হতো? তবে দোভাষী হিসেবে যেহেতু ভূমিকা পালন করতাম তাই কাছ থেকে একটি জিনিস আঁচ করেছি মামার আ্যটিচিউড এবং আথিতিয়েতাই তাকে সবার কাছে এক গ্রহনযোগ্য সেবক এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে সমাদৃত করেছে।

তিনি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একজন সফল ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যার স্বীকৃতি স্বরুপ গণপ্রজাতণ্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গোল্ড মেডেল সহ অসংখ্য পুরস্কারের সম্মান অর্জন করত: সি আই পি পদে ভূষিত হন।
সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে প্রয়োজনাতিরিক্ত অর্থ বৈভবের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও হাল আমলের ধনাঢ্যদের মত বিদেশে সেকেন্ড হোমের বিলাসী কল্পনা তাঁকে প্রলুদ্ধ করতে পারেনি, চাকচিক্যময় শহুরে জীবনের বেড়াজালে কখনো নিজেকে স্পর্শ করতে দেননি। দৃষ্টি নন্দন সবুজ-শ্যামলের গালিচায় বেষ্টিত বাঁকে বাঁকে চলা গাঁওয়ের স্নিগ্ধতা, রোদেলা দুপুরে শিশু, কিশোর, তরুন, যুবক সহ সকল বয়সের কলকাকলিতে মুখরিত বড় দিঘিতে অপরুপ স্নান দৃশ্যসহ গ্রামের বহুবিদ মনোরম এবং উদ্দীপ্ত দৃশ্য দেখে বড় হওয়া লোক দিন শেষে ঐন্দ্রজালিক টানে আপন গ্রামালয়েই প্রশান্তির ঢেঁকুর ঘিলত। যার পরিক্রমায় অবহেলিত জনপদের সারথি হয়ে নিজে সঁপে দিয়েছিলেন আপামর জন সাধারনদের সেবক হিসেবে। জীবনের শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত জন প্রতিনিধির তকমা নিয়ে অগণিত মানুষকে অশ্রু বারিতে ভেসে দিয়ে ওপারে চলে গেলেন।
অবালবৃদ্ধবণিতা সহ দল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষের অংশগ্রহনে স্মরণীয় নামাজে জানায়ার এক মাইলফলক রচিত হয়েছে। জানাযার পূর্ব মূহু্র্ত ছিল যেন শত্রু-মিত্র, হারিয়ে যাওয়া আপনজনের স্বাক্ষাত মিছিল!
অফুরন্ত ভালবাসা এবং আন্তরিকতার পরম পরশে শ্রদ্ধাভাজন মামা এইচ কে আনোয়ার সামাজিক সম্প্রীতির এক মেলবন্ধনে সবাইকে এক কাতারে দলে দলে সমবেত হতে আত্মিক আকর্ষণে আকর্ষিত করতে পেরেছেন। উনার ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা,উদারতা, মানবতা সর্বোপরি উনার লদ্ধপ্রতিষ্ট অভিজ্ঞতা আজ জনে জনে শ্রুতিমধুর দ্যোতনা-ব্যন্জনাতে মুখরিত।প্রত্যাশা রাখি উনার দেখানো পথে যেন অনাগত প্রজন্মরা মানব সেবার বন্ধুর পথকে পাড়ি দিয়ে নতুন একটি সমাজ, দেশ এবং পৃথিবী গড়ে তুলে। মামা,আল্লাহ আপনাকে বেহেশতের উচ্চ মকাম দান করুক। আমিন! সুম্মা আমিন!

সর্বশেষ সংবাদ

মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গুর ‘কামড়’

স্ত্রীকে ‘উত্ত্যক্তের’ প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

মিয়ানমারের বিচারে আরও একধাপ এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

ইয়াবা ব্যবসার নিরাপদ স্থান রোহিঙ্গা ক্যাম্প!

অল্প বৃষ্টিতেই দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন উপায় 

ফিউচার লাইফের আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত

দারুল আরক্বমে সংবর্ধনা ও নবীন বরণ

একবার ভেবে দেখবেন কী !

কনস্টেবল স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ৩৮৬ জনের বিপরীতে ৭৫৩ জন উত্তীর্ণ : বৃহস্পতিবার লিখিত পরীক্ষা

একটি সাদা কাফনের সফর নামা – (৭ম পর্ব)

হোপ ফাউন্ডেশনের ফিস্টুলা সেন্টারের অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করলো কউক

অপরাধ দমনে শ্রেষ্ট অফিসার চকরিয়া থানার এএসআই আকবর মিয়া

জেলা মৎস্যজীবি শ্রমিকলীগের কমিটি গঠন

চকরিয়ায় আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত

সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া আরেকটি ছবি

মাদক ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় প্রচারণা, ঘরে ঘরে হুশিয়ারি

‘ঈদগাহ উপজেলা’ গঠন প্রক্রিয়া শুরু

মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : ডিসি কামাল

হ্নীলায় রাশেদ, ফাঁসিয়াখালীতে গিয়াস ও বড়ঘোপে কালাম মেম্বার